মাত্র ১০ হাজার টাকার ‘কন্টাকে’ পুলিশ কনস্টেবলকে হত্যা

চলতি মাসের ৪ তারিখে গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান থেকে উদ্ধার করা হয় অজ্ঞাত এক যুবকের গলাকাটা লাশ। পরিচয় পাওয়া না যাওয়ায় বেওয়ারিশ হিসাবে ৮ মার্চ লাশটিকে পৌর করবস্থানে দাফন করা হয়।

এরপর ১২ মার্চ লাশের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহতের নাম মো. শরীফ আহমেদ (৩৩)। ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার ঝিলকি এলাকার মো. আলাউদ্দিন ফকিরের ছেলে কন্সটেবল শরীফ কর্মরত ছিল গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগে।

খুনিদের সঙ্গে ১০ হাজার টাকায় চুক্তি করে মোফাজ্জল এবং মনির নামে দুইজন পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শরীফ আহামেদকে হত্যা করতে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৪ মার্চ র‌্যাব-১ এর সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের মূলহোতাসহ ৩ খুনিকে গাজীপুরের গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলো, ময়মনসিংহ জেলার আবদুল মালেকের ছেলে মো. মোফাজ্জল হোসেন (২৮), একই জেলার মৃত জবান আলীর ছেলে মো. মাসুদ মিয়া (২৫) ও নেত্রকোনা জেলার মো. আবদুল করিমের ছেলে মনির হোসেন (৩০)।

জানা যায়, নিহত পুলিশ কনস্টেবল শরীফর সাথে মোফাজ্জল ও তাকওয়া বাসের ড্রাইভার মনিরের আগে থেকেই পরিচয় ছিল। কিছুদিন পূর্বে
তাদের মাঝে হওয়া মনোমালিন্যের জেরে মোফাজ্জল এবং মনির মিলে শরীফকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

কনস্টেবল শরীফকে খুন করার জন্য মোফাজ্জলের পরিকল্পনামত ১ মার্চ ময়মনসিংহের গ্রামের বাড়ীর তার দু:সম্পর্কের আত্মীয় ভাড়াটে খুনি মাসুদকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে খুনের চুক্তিতে ভাড়া করে এবং তাকে অগ্রিম ৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। ২ মার্চ তারা মাসুদকে গাজীপুরে নিয়ে আসে এবং মনিরের বাসায় বসে হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে।

পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক ৩ মার্চ দুপুরে্র দিকে তাকওয়া বাসের ড্রাইভার মনির ১ টু ৯৯ মার্কেট থেকে একটি চাকু ক্রয় করে। ৩ মার্চ রাত সাড়ে ১১টার দিকে মোফাজ্জল কৌশলে শরীফকে ভোগড়া বাইপাস এলাকায় নিয়ে আসার পর তাকে তাকওয়া পরিবহনে ওঠায়। মনির হোসেন বাসটিকে চালিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডে শ্রীপুরের মাওনার উদ্দেশ্যে রওনা হয় এবং জয়দেবপুরের ভবানীপুর বাজার থেকে ইউটার্ন নিয়ে পুনরায় চান্দনা চৌরাস্তার দিকে যাওয়া শুরু করে।

খুনিরা সুযোগমত বাসের দরজা-জানালা বন্ধ করে দেয়। আনুমানিক রাত দেড়টার দিকে বাসটি হোতাপাড়া আসে। তারপর মাসুদ বাসে থাকা লোহার হুইল রেঞ্জ দিয়ে শরীফের পিছন থেকে মাথায় আঘাত করলে শরীফ অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে।

এরপর মোফাজ্জল ও মাসুদ মিলে নাইলনের রশি দিয়ে শরীফের দুই হাত বেঁধে বুকের উপর বসে ধারালো চাকু দিয়ে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে। নিথর শরীফের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা ৩ জনে ভাগাভাগি করে নেয়। রাত ২টার দিকে ন্যাশনাল পার্কের ৪নং গেটের সামনে বাসটি থামিয়ে লাশটি রাস্তার পার্শ্বে ফেলে দ্রুত সটকে পড়ে। সেখান থেকে চলে আসার সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা চাকু রাস্তার পাশে ঝোপে মাঝে ফেলে দেয়।

ফেরার পথে বাসন এলাকায় একটি সিএনজি পাম্পের পানি দিয়ে গাড়ির রক্ত ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করে নেয়। তাদের রক্ত মাখা জামা-কাপড় পলিথিন ব্যাগে করে গাড়ির টুলবক্সের ভিতর রেখে দেয় এবং নাওজোরে মনিরের ভাড়া বাসায় গোসল করে রাতের খাবার খেয়ে একত্রে ঘুমিয়ে থাকে।

তাদের দেয়া তথ্যমতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত তাকওয়া পরিবহনের ১টি বাস, গাড়ির রক্তমাখা হুইল রেঞ্জ, ১টি চাকু এবং ভিকটিমের ৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর