চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে ইউরোপের দেশ ইতালিতে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করেছে। একদিনে দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরও ৩৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১ হাজার ৮০৯ জনে।
ইউরোপের এই দেশটিতে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ৫৯০ জন। আর সবমিলিয়ে দেশটিতে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বর্তমানে ২৪ হাজার ৭৪৭।
চীনের পর করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ইতালিতে। করোনা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য পরামর্শ নিতে চীন থেকে একদল বিশেষজ্ঞ গত শুক্রবার ইতালিতে এসে পৌঁছেছেন। ইতোমধ্যে তারা স্পালানজানি হাসপাতাল পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং ইতালিয়ান চিকিৎসকদের সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিতে আলোচনা করছেন।
এদিকে দেড় লাখ বাংলাদেশিসহ দেশটির প্রায় ছয় কোটি জনগণকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে। করোনাভাইরাসের প্রভাবে দেশটিতে জারি করা জরুরি অবস্থার মধ্যে বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। গো টা ইতালি এখন থমকে আছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি চরম হুমকির মধ্যে পড়েছে। কোনো পর্যটক দেশটিতে প্রবেশ করতে পারছেন না। সরকারের কঠোর নির্দেশনা, অতি প্রয়োজন ছাড়া কেউ যেন ঘর থেকে বাইরে বের না হয়।
করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে ইতালির বিখ্যাত বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফেরারি আগামী দুই সপ্তাহের জন্য তাদের দুটি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে গোটা ইতালি অবরুদ্ধ থাকায় ‘মারাত্মক জটিলতায়’ পড়তে হচ্ছে জানিয়ে শনিবার এই ঘোষনা দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
করোনাভাইরাসের কারণে জনবহুল শহর রোমও জনমানব শূন্য। ইতোমধ্যে রোমের ক্লোসিয়াম, ফোনতানা ত্রেভি, ভেনেসিয়াসহ দর্শনীয় স্থানগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। গোটা ইতালির জনগণ এখন বন্দি জীবনযাপন করছেন। সুপার মার্কেটগুলোতে একসঙ্গে সবাইকে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। সবসময় সেখানে দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলছে সরকার ঘোষিত প্রতিষ্ঠানগুলো। কিছু সুপার মার্কেট ও ক্লিনিকে মাস্ক ছাড়া প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। অন্যদিকে, ইতালিজুড়ে মাস্কের খুবই অভাব দেখা দিয়েছে। কয়েকটি ফার্মেসিতে মাস্ক পাওয়া যায়নি। বিক্রেতারা বলছেন, আগামী সপ্তাহে পাওয়া যেতে পারে।
জরুরি অবস্থায় যানবাহনও আগের মতো না চলায় দেশটিতে দুর্ভোগ বেড়েছে। ইতালির সরকার করোনার মহামারি সামাল দিতে নতুন নতুন আদেশ জারি করে একের পর এক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিচ্ছে। সরকার অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান ছাড়া সব প্রতিষ্ঠানই বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। সর্বত্র প্রশাসনের কঠোর নজরদারি করছে। এমনকি সর্বসাধারণের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
বার্তা বাজার / ডাব্লিও.এস