চট্টগ্রামে সময়মত ড্রাইভিং লাইসেন্স না পেয়ে পদে পদে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন লাইসেন্স আবেদনকারীরা।
রোববার (১৫ মার্চ) বেলা বারোটার দিকে হাটহাজারী থানাধীন নতুন পাড়া এলাকায় অবস্থিত বিআরটিএ’র (বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি) অফিসে লাইসেন্স না পেয়ে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ি চালকরা এ ভোগান্তির কথা জানান।
বিগত এক বছরেরও অধিক সময় ধরে লাইসেন্সের আবেদন করে লাইসেন্স না পাওয়া কয়েকজন আবেদনকারী ও গাড়ি চালক জানান, লাইসেন্স প্রাপ্তির সকল শর্ত ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরও গত এক বছর ধরে বিআরটিএ লাইসেন্সের স্মার্টকার্ড দিতে না পারায় চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বিআরটিএ কর্তৃক নির্ধারিত দিনে এসেও খারি হাতে ফিরে যেতে হয়। লাইসেন্স দিবে দিবে করে লাইসেন্সের পরিবর্তে দেওয়া হয় নতুন তারিখ। কিন্তু সড়কে গাড়ি চলাচলে ট্র্যাফিক পুলিশকে স্লিপ দেখানোর পরও মামলা দেওয়া হয়। এজন্য চালকদের হয়রানি রোধে বিআরটিএ আপাতত অস্থায়ী লাইসেন্স কার্ড দিলে তাতেও অনেকে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন লাইসেন্স আবেদনকারীরা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিআরটিএ চট্টগ্রাম সার্কেল অফিসের উপপরিচালক (ইঞ্জিন) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, “বিআরটিএর সাথে চুক্তিবদ্ধ লাইসেন্স প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘টাইগার আইডি’ গত বছর দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্বব্যাংকের কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার কারণে চুক্তি বাতিল হয়ে যায়। সেই সাথে বন্ধ হয়ে যায় লাইসেন্স প্রিন্ট কার্য্যক্রম। নতুন করে কোন প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি হলে শীঘ্রই এই লাইসেন্স প্রিন্ট সংকট কেটে যাবে এবং আবেদনকারীদের লাইসেন্স প্রদান করা হবে।”
জানা যায়, সমগ্র চট্টগ্রামে বর্তমানে ঝুলে থাকা লাইসেন্স আবেদনকারীর সংখ্যা হলো ২ লাখ ২৬ হাজার ৯৪৮। যেখানে ২৬ হাজার ভারি, ৯৬ হাজার ৯৭১টি হালকা, ৪ হাজার ৩৭০টি মধ্যম যানবাহনের আবেদন রয়েছে।
মেট্রো এলাকায় ঝুলে থাকা মোট লাইসেন্সের আবেদন সংখ্যা ১ লাখ ৩৩ হাজার ২৪৪। যেখানে ভারি ১৭ হাজার ৪৯৩টি, হালকা ৫৪ হাজার ২৪৪টি, প্রফেশনাল ৮৬ হাজার ৩৯৬টি, অপেশাদার ৪৬ হাজার ৮৪৮টি।
বার্তা বাজার / ডাব্লিও.এস