কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, বিএনপি সরকার সারের দাবিতে আন্দোলনরত কৃষক জনতার উপর নির্বিচারে গুলি করে ১৮ জন কৃষক জনতাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। ‘কৃষক হত্যা দিবস’ উপলক্ষে রবিবার (১৫ মার্চ) সকালে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বাংলাদেশ কৃষক লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কৃষিমন্ত্রী একথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার কৃষি উন্নয়নে নানা ধরনের কৃষিবান্ধব নীতি ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করেছে। এর ফলে কৃষি উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতোমধ্যে সবার জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে। এখন লক্ষ্য হলো পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিতকরণ এবং কৃষিকে লাভবান করা।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষকদেরকে ভালবাসেন। তিনি শিশুকাল থেকেই কৃষকদের দু:খ-দুর্দশা দেখেছেন। তাই, তাঁর নেতৃত্বে এ সরকার কৃষকদের সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে কৃষি পুনর্বাসন ও কৃষি প্রণোদনা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এ কার্যক্রমের আওতায় বিনামূল্যে বিভিন্ন ফসলের বীজ ও রাসায়নিক সার সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। তাছাড়া সরকার সারে ভর্তুকি দিচ্ছে। সম্প্রতি ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সারের দাম প্রতি কেজিতে ৯ টাকা করে কমিয়ে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য প্রতিকেজি ২৫ টাকা থেকে ১৬ টাকা করা হয়েছে। ফলে কোন কৃষককে সারের জন্য আন্দোলন করতে হয় না। সারের জন্য জীবন দিতে হয় না। অথচ, বিএনপি সরকারের সময় এই সারের জন্য কৃষকদের আন্দোলন করতে হয়েছে। জীবন দিতে হয়েছে। বিএনপি সরকার সারের দাবিতে আন্দোলনরত কৃষক জনতার উপর নির্বিচারে গুলি করে ১৮ জন কৃষক জনতাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল।
কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, একদিন পর থেকেই আমরা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ পালন করতে যাচ্ছি। তাঁর কালজয়ী আদর্শ ছিল একটা গণতান্ত্রিক,অসাম্প্রদায়িক এবং ন্যায় ও সমতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করা। জন্মশতবর্ষে তাঁর এই আদর্শের ভিত্তিতে আমরা বাংলাদেশের সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে চাই- যাতে করে আর কোনদিন স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এদেশে মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে।
বাংলাদেশ কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান। পরে মন্ত্রী শহিদ ১৮ কৃষক পরিবারকে বাংলাদেশ কৃষক লীগের পক্ষ থেকে দশ হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা প্রদান করেন।
বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস