“আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে, নইলে মোদের রাজার শাসন মিলবে কি শর্তে” জনপ্রিয় এই গানটির বাস্তবতাকোথাও এখন আর খুঁজে পাওয়া গেলেও এটি এখন স্বার্থকরূপ ধারণ করেছে সাংবাদিকতার একাংশে। যেখানে কোন নিউজেরসত্যতা যাচাই না করেই গণহারে প্রচার করে চলছে নিউজ।
দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের অনেক জাতীয়দৈনিক, অনেক অনলাইন, নিউজ পোর্টাল সংবাদপত্রের নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করে যাচ্ছে, যা সংবাদপত্র নিয়ম বহির্ভূত কর্মকাণ্ডের সামিল।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, গত ৪ মার্চ, ২০২০ ইং বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ডিএমপি’র দক্ষিণখান থানার ওসিসহ ১০ পুলিশের বিরূদ্ধেমামলা। এতে ১০পুলিশসহ ১৭জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয় কোর্টের মাধ্যোমে। এতে দেখা যায়, এক মিডিয়াকেঅনুসরণ করে বাকী সব মিডিয়াই শিরোনাম পরিবর্তন করেছে মাত্র, সারাংশ সবার একই। এখানে প্রশ্ন তদন্ত ব্যতিত এ ধরনেরপ্রতিবেদন প্রকাশ করা কি সংবাদপত্রের নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের সামিল নয়?
আদালতপাড়া এমন এক জায়গা যেখানে যে কেউ উপস্থিত হয়ে উকিলের মাধ্যমে যে কোনো লোকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরকরতে পারেন। এতে মিডিয়ার অতি উৎসাহ বা পুলকিত হবার কিছু নেই। একজন মানুষ কিংবা উক্ত মূল বিষয়ে পুরো না জেনেসে সম্পর্কে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ পুরো সাংবাদিক জগতের উপর সাধারণ মানুষের আস্হা হারানোর নামান্তর বটে। এমনসংবাদ প্রকাশের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন, বেশ কয়েকটি পত্রিকার সম্পাদক ও বিভিন্ন সাংবাদিক মহল।
পত্রিকার সম্পাদকরা বলেন, এখানে সত্য মিথ্যা যাচাই করবে আদালত। আদালত বাদীর দায়েরকৃত মামলার তদন্তভার দিয়েছেন, পুলিশ ব্যুরো অবইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর উপর। পিবিআই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরিতে স্বচেষ্ট হবেন এবং সঠিক প্রতিবেদন দাখিলকরবেন এমনই মনে করছেন সচেতন মহল।
ঘটনার বিবরণ, মামলার বাদী মার্জিয়া আক্তার পুতুল (৪১) তার পারিবারিক সম্পত্তি রক্ষার্থে অনাধিকার প্রবেশ করতঃ মারপিট, চুরি, ক্ষতিসাধন ও হত্যার হুমকি সম্পর্কিত একটি মামলা দায়ের করেন দক্ষিণখান থানায়। সেই মর্মে মামলার দায়িত্বে থাকাএসআই মোঃ আরিফ হোসেন, সঙ্গীয় অফিসার এএসআই মোঃ আরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল মোঃ তৌফিক, নারী কনস্টেবলমোছাঃ রুনা আক্তার ও জিয়াসমিন সর্ব দক্ষিণখান থানা, ডিএমপি ঘটনাস্থলে গেলে বাদীর সৎমেয়ে শামীমা বেগম(৪১) ও তারস্বামী জসিম উদ্দিন(৪১)সহ ২০/২৫জনের একটি সন্ত্রাসীদল উক্ত পুলিশ বাহিনীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ও আসামীদের ছিনতাইকরার প্রয়াস চালায়। এসআই মোঃ আরিফের ইউনিফর্ম ছিড়ে ফেলে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে। চৌকষ অফিসার এসআই মোঃআরিফ বেতার মাধ্যমে থানা এলাকায় মোবাইল ডিউটিতে নিয়োজিত থাকা কিলো-৯৪ ও এক্সরে-৯৪সহ থানায় অবগতকরলে মোবাইল টিমের উপস্হিতি টের পেয়ে কিছু আসামী পালিয়ে যায় এবং কয়েকজন ধৃত হয়। পুলিশের সরকারি কাজে বাঁধাপ্রদান, আক্রমণ ও মারপিটের কারণে থানায় পুলিশ কতৃক আরেকটি মামলা হয়।
উল্লেখ্য, শেষে দক্ষিণখান থানার ভারপ্রাপ্তকর্মকর্তা জনাব শিকদার মোহাম্মদ শামীম, তদন্ত কর্মকর্তা ও নারী পুলিশসহ ঘটনাস্হলে উপস্থিত হয়ে আসামীসহ থানায় নিয়েআসে। এসময় আসামী অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। পরে ১নং আসামি জসিম উদ্দিনের স্ত্রী শামীমা বেগম কোর্টেগিয়ে উকিলের মাধ্যমে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়- মার্জিয়া আক্তার (সৎমা) শরীরের কাপড় খুলে ফেলে আর ওসি বুকে, পেটে ও যৌনাঙ্গে হাত দিয়েশ্লীলতাহানি করে। যেখানে নারী কনস্টেবলসহ বেশ কয়েকজন অফিসার এবং বাসার মানুষজন উপস্হিত সেখানে এটা কিভাবেসম্ভব? এমন হাস্যকর বিষয় নিয়ে মামলা ও একজন সৎ, নীতিবান পুলিশ কর্মকর্তাকে হেয় করার বিষয়টি সামাজিক মহলে তীব্রঘৃণার সৃষ্টি করেছে।
আশকোনা এলাকার একজন স্হায়ী বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান- “এমন ঘটনা কখোনোই সম্ভব নয়। এতমানুষের ভিড়ে কোন বদ্ধ পাগলও এমন করবে না। ওসি শিকদার মোহাম্মদ শামীম দক্ষিণখান থানায় আসার পর এলাকায়মাদক নেই বললেই চলে। ছিনতাইয়ের ঘটনা কখনো শুনিই না। তিনি আরো বলেন- এমন মহিলা সম্পর্কে বলতে আমারই ডরকরে। তিনি বিষয়টি বানোয়াট, ভিত্তিহীন বলে দাবী করেন।”
দক্ষিণখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জনাব শিকদার মোহাম্মদ শামীম বলেন- “আজ অব্দি আমার নামে কোন খারাপ রিপোর্টনাই। আমি জনগণের বন্ধু ও সেবক। মাসিক ক্রাইম রিপোর্টে আমার থানা বারবার ১ম অবস্থানে থাকে। আমার উর্ধতন কতৃপক্ষআমার বিষয়ে অবগত। আমি সেই মহিলার বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করবো। এমন হাস্যকর বিষয়ে আর কিছু বলতে চাইনা।বিজ্ঞ আদালত মামলা পুলিশ ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (পিবিআই)কে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। তদন্ত শেষে সকল সাংবাদিক ভাই ওএলাকার মানুষের ভুল থাকলে তা সংশোধন হবে।”
এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। পিবিআই প্রতিবেদনে জানা যাবে আসল কাহিনী। তবে আশার কথা কোন অপরাধী আইনের উর্ধ্বেনয়। অপরাধী যেই হোক তার সঠিক বিচার হোক- এটাই এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবী।
পরিশেষে এটুকু বলা যায়, সাধুবাদ সেই শিক্ষিত যুব ও প্রকৃত সাংবাদিকদের যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে সত্য তুলে এনে প্রচার করেজাতীর বিবেককে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বিশ্ব দরবারে। প্রকৃত সাংবাদিক জাতীর বিবেক। সেই বিবেক জাগ্রত থাকুক কলমেরছোঁয়ায়।।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি