ক্যাফেটেরিয়ার চা’ এর টেবিল থেকে ডায়না চত্বর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭৫ একরের আড্ডা, গল্পের আসর অথবা চা চক্র যেখানেই যাবেন সেখানেই গানের পাখি খ্যাত লালচাঁন কিংবা লালন কন্যা মিমের গান আর সুরের মূর্ছনা আপনাকে বিমোহিত করবে।
সম্প্রতি ক্যাম্পাসের এ দুই পরিচিত মুখ “আমার বন্ধু দয়াময়, তোমারে না দেখিবার মনে লয়।” জনপ্রিয় এ ফোক গানটি গেয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন।
এ গানটি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নজন গেয়েছেন। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া তাদের এ গানটি একটু ব্যতিক্রমধর্মী ছিল। ৪ মি. ২৮ সেকেন্ডের এ গানের ভিডিওতে দেখা যায় ইবির ক্যাফেটেরিয়ার একটি টেবিলে বসে গাইছেন তারা।
সেখানে ছিলনা কোন তবলা বা হারমনিয়াম কিংবা আধুনিক কোনো বাদ্যযন্ত্র। ছিল শুধু দুজন শিল্পীর সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত সুরেলা গলা। যে সুরের মূর্ছনায় এখনো কাঁপছে সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন গ্রুপ আর পেজ।
ভাইরাল হওয়া গানটি “Islamic University, Bangladesh-ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ” নামে একটি ফেসবুক পেজে এ গানটি আপলোড করা হয় গত ৭ মার্চ রাতে। এখন পর্যন্ত গানটি প্রায় ১.৩ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ দেখেছেন। গানটিতে লাইক পড়েছে প্রায় ৮০ হাজার। ৮ হাজারেরও বেশি শেয়ার হয়েছে, কমেন্ট পড়েছে ২ হাজারেরও বেশি।
এদিকে ফেসবুকের কমেন্টে এবং শেয়ারের ক্যাপশনে মিমের গানের ভূয়সি প্রশংসা করেছেন সাধারণ দর্শক-শ্রোতারা।
রহমান মতিউর নামের একজন ফেসবুকে কমেন্টে বলেন, লালন কন্যা মীম ও ইবির গানের পাখি খ্যাত লালচাঁন তালুকদার। সত্যি বোন তো যেমন তেমন কিন্তু ভাই কি বলবো এতো স্ট্রং গলা যেখানে মিউজিক ফেইল আমি অনেক গান শুনেছি কিন্তু এতো দরদ দিয়ে কাউকে গাইতে আজ পর্যন্ত শুনিনি।
সুমনা দাস নামের আরেকজন বলেন, অপূর্ব, যত সুন্দর গলা তত সুন্দর গান, ভাটিয়ালি তাল দেওয়া। আর কি চাই এটাই তো চাই, চালিয়ে যাও।
অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে ইবি শিক্ষার্থী লালচাঁন তালুকদার বলেন, এর আগে ঢাকা শিল্পকলা একাডেমি প্রতিযোগিতায় মাইজভান্ডারি গানে প্রথমস্থান অধিকার করি, ইতিমধ্যে সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গান গেয়ে মানুষের মন জায়গা করে নিতে পেরেছি সেজন্য সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বিভিন্ন সময় আমার গান ভাইরাল হয়েছে এ গানটি ছিল একবারে ব্যতিক্রম। আমি ফোক ও লালন গান গাইতে বেশি ভালোবাসি। আর আমার দেশের মানুষ আমার গানের প্রতি যে ভালোবাসা দেখিয়েছে। তাদের ভালোবাসায় আমি সিক্ত। দর্শকদের এ ভালোবাসা আমি জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত ধরে রাখার চেষ্টা করবো।
সাহরীন সুলতানা মিম বলেন, “শিল্পীরা যখন গান করে তার মনের মধ্যে একটি আশা থাকেই যে তার গান মানুষের ভালোলাগবে। আমি মনের খুশির জন্য গান করি, কিন্তু যখন তা দর্শকপ্রিয়তা পায় তখন নিজের কাছে বড় প্রাপ্তি বলে মনে হয়। আমি গান শিখি ছোটবেলা থেকে, মাটি ও মানুষের গান গাই আমি আর মানুষ তা ভালোভাবে নিচ্ছে তাই এটা আমার জন্য অনেক বড় অর্জন।”
উল্লেখ্য, লালচাঁন তালুকদার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র আর সাহরীন সুলতানা মিম ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী।
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=3032169250180014&id=442896812440617
বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস