লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার দলগ্রাম ইউনিয়নের শ্রীখাতা বালাপাড়া গ্রামে স্থানীয় মাতব্বর এর ফতোয়া তে দুই বছর থেকে একঘরে হয়ে আছে জহুরুল ইসলামের (৬৫) ১০ সদস্যের পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায় প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পরে দ্বিতীয় বিবাহ করেন জহুরুল ইসলাম।তারপর বছর দুয়েক আগে স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক কলোহের জন্য মৌখিক ভাবে স্ত্রীকে তালাক দেয় জহুরুল ইসলাম।এই ঘটনার পরে জহুরুল ইসলাম এর স্ত্রী প্রায় একমাস ছিলেন তার ভাই এর বাড়িতে।একমাস পরে জহুরুল ইসলাম স্ত্রী কে বাড়িতে ফিরিয়ে এনে সংসার শুরু করেন।
কিন্তু এই সম্পর্ককে অবৈধ ঘোষণা করে মসজিদ কমিটির সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য নুর আমিন এর নেতৃত্বে স্থানীয় দশ জহুরুল ইসলাম এর পরিবার কে একঘরে করে দেয়।
এর পরে মসজিদে নামাজ আদায়ে বাঁধা,দোকানে নগদ অর্থেও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয়ে বাঁধা,অন্যের জমির উপর দিয়ে চলাচলে বাঁধা সহ নানানরকম ভাবে অবহেলিত ও বঞ্চিত হয়ে আসছে জহুরুল ইসলাম এর পরিবার,এমনটি জানায় তার পরিবারের সদস্যরা।
এদিকে মসজিদ কমিটির সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য নুর আমিন এর ভাষ্যমতে তিনি একক সিদ্ধান্তে কিছু করেনি।দশজনের মতামতেই এমনটা করা হয়েছে।
মসজিদের ইমাম সাহেব এর ভাষ্যমতে এটা সম্পূর্ণভাবে অমানবিক এবং ইসলাম এরকম অমানবিকতা কে সমর্থন করেনা আর ইসলামে এরকম কোন বিধানও নেই।
এদিকে এই অবিচারের শিকার হয়ে কালীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন জহুরুল ইসলাম।থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) জানান বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে।
বার্তাবাজার/এমকে