ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) কেন্দ্র থেকে গঠিত কমিটি কতৃক অপপ্রচার এবং বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে, এই মর্মে তা নিরসনকল্পে বিবৃতি দিয়েছে বঙ্গবন্ধু পরিষদ, ইবি শাখার নির্বাচিত কমিটি।
বুধবার বঙ্গবন্ধু পরিষদ, ইবি শাখার নির্বাচিত কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. রুহুল কুদ্দুস মোঃ সালেহ এবং সাধারণ সম্পাদক ড. আবু হেনা মোস্তফা জামাল স্বাক্ষিরিত এক সংবাদ বিবৃতি থেকে এ তথ্য জানা যায়।
ঐ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ৩১-১২-২০১৯ তারিখে বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি, বঙ্গবন্ধু পরিষদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পূর্ববর্তী আহবায়ক কমিটিকে বিলুপ্ত করে ৭৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন মর্মে প্রচার করা হয়।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়নে উদ্বুদ্ধ প্রগতিশীল ও মুক্তবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের সংগঠন বঙ্গবন্ধু পরিষদ ইলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সিংহভাগ সাধারণ সদস্য এ খবরে মর্মবেদনা বোধ করেন।
এরই প্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সিনিয়র সদসাদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গবন্ধু পরিষদের সর্বজন শ্রদ্ধেয় সাধারণ সম্পাদক ডাঃ এস. এ. মালেক মহোদয়ের সাথে দেখা করেন।সাধারণ সম্পাদক মহোদয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু পরিষদের সিনিয়র সদস্যদের কাছ থেকে বিস্তারিত জানার পর তিনি জানান সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক নতুন কমিটি অনুমোদন নিয়েছেন এবং উক্ত কমিটিতে যে কর্মকর্তা আছেন সেটি তিনি জানেন না। এমতাবঞ্ছায় তিনি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ বঙ্গবন্ধু পরিষদ গঠনের জন্য বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রিয় কমিটির প্রচার সম্পাদককে দায়িত্ব দেন।
সিনিয়র সদস্যরা প্রচার সম্পাদককে বিনয়ের সাথে জানান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু পরিষদ ঐতিহ্যগত ভাবেই নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিকপদ্ধতিতে দীর্ঘদিন যাবত গঠিত হয়ে আসছে এবংকেন্দ্র সেটিকে অনুমোদন দিয়ে থাকেন।
উল্লেখ্য বর্তমান কেন্দ্রিয় কমিটি নামে প্রচারিত কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান।পূর্বে নির্বাচনের মাধ্যমে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং তাঁর নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ বঙ্গবন্ধু পরিষদ বর্তমান কেন্দ্রিয় সাধারণ সম্পাদক মহোদয়ের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন এবং পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন নেন।
কিন্তু হঠাৎ করে সিংহভাগ সদস্যের অজান্তেই কিছু সদস্য কেন কেন্দ্র থেকে কমিটি অনুমোদন নিয়ে আসলেন এর কারণ অনুসন্ধান করতে হাল কীভাবে এ পরিস্থিতি তৈরী হল তার একটি কালক্রমিক পর্যালোচনা প্রয়োজন। বঙ্গবন্ধু পরিষদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পূর্ববর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় গত ২০১০ সালে।
মধ্যবর্তী নির্বাচন সংক্রান্ত বিলম্বের কারণে ২০১৬ সালে বর্তমান কেন্দ্র থেকে অনুমোদিত কমিটির সভাপতির নেতৃত্বে কেন্দ্রিয় সাধারণ সম্পাদক মহোদয় একটি আহবায়ক কমিটি করে দেন এবং অতি দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা প্রদান করেন।কিন্তু সম্মানিত আহবায়ক আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান দীর্ঘকাল বঙ্গবন্ধু পরিষদের কোন কার্যক্রমতো চালাননি বরং হঠাৎ করে নিজেকেসভাপতি করে কেন্দ্র থেকে কমিটি অনুমোদন করে এনেছেন।
ঐ বিবৃতিতে আরো বলা হয়, নির্বাচন না দেওয়ার মূল কারণ ছিল গুটিকয়েক ব্যক্তির বঙ্গবন্ধু পরিষদের পদবী ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি ও সুবিধা আদায়।বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রতিষ্ঠা নয়, বরং সেই পার্টফর্ম ব্যবহার করে নিজেদের হীন উদ্দেশ্য বাস্থবায়নই তাদের নিত্যদিনের কাজ বলে প্রতীয়মান হয়েছে।এছাড়াও কেন্দ্র অনুমোদিত বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড.মাহবুবুল আরফিন এর বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ সংগঠনবিরোধী নানা কর্মকান্ড বঙ্গবন্ধু পরিষদের ভাবমুর্তি দারুনভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
এমতাবস্থায়, সাধারণ সদস্যদের আবেদনে সাড়া দিয়ে বঙ্গবন্ধু পরিষদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু পরিষদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কেন্দ্র অনুমোদিত কমিটি গঠনোত্তর জাতীয় ও স্থানীয় কিছু পত্রিকায় যে বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে তা শুধুমাত্র পূর্ববর্তী কমিটির আহবায়ক এবং গুটিকয়েক সদস্যের।
এভাবে সংগঠনের ভাবমুর্তি নষ্ট না করার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। পুর্ববতী কমিটির সকল সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে সকলের সার্বিক সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।
বার্তাবাজার/এমকে