মিথ্যা ঘোষনায় আনা চকলেট ও বেবি ফুডের চালান আটক
চট্টগ্রাম বন্দরে শুল্ক ফাঁকির উদ্দেশ্যে মিথ্যা ঘোষণায় আনা চকলেট ও বেবিফুডের পৃথক দুইটি চালান আটক করেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস।
বুধবার (১১ মার্চ) পৃথক পৃথক দুইটি কনটেইনারে তল্লাশি চালিয়ে চালান দুইটি আটক করে কাস্টমসের অডিট ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ (এআইআর) এর কর্মকর্তাবৃন্দ। কায়িক পরীক্ষা শেষে বিপুল পরিমাণ শুল্কফাঁকির বিষয়টি নিশ্চিত হন কাস্টমসের অডিট ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ (এআইআর) শাখার কর্মকর্তারা।
এআইআর’র সহকারী কমিশনার নূর এ হাসনা সানজিদা অনসুয়া জানান, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা ৪০ ফুট দীর্ঘ একটি কনটেইনারে তল্লাশি চালায়। তল্লাশি করে ২৫১ কার্টনে রক্ষিত ১৩ হাজার ২৫৮ কেজি তুর্কীর এ্যাসরটেড চকলেট পাওয়া যায়। কিন্তু চালানের কাগজ চেক করে দেখা যায় সেখানে চকলেট সম্পর্কে কোন তথ্য উল্লেখ করা নেই। সেখানে আমদানি ঘোষিত পণ্য হিসেবে ছিল ‘সুইট কর্ন এন্ড অলিভ’। যার প্রাথমিক হিসাবে এ চালানের শুল্ক দাঁড়ায় ৫৬ লাখ টাকা। এর সঙ্গে মিথ্যা ঘোষণার জরিমানা মূল্য যোগ হলে দাঁড়ায় প্রায় ৭০ লাখ টাকা।”
এছাড়া বিকালে ৪০ ফুট দীর্ঘ আরেকটি কনটেইনারের মালামাল নিয়েও ঘটেছে একই কারসাজি। সুইট কর্নের নামে আনা হয়েছে ১ হতে পাঁচ বছর বয়সী বাচ্চাদের জন্য ব্যবহৃত দুধ বা বেবিফুড ‘ল্যাকটোজেন’। এখানে আগেরটির মত বিল অব এন্ট্রি দাখিল করা হয়নি। বিরাট অঙ্কের শুল্ক ফাঁকির উদ্দেশ্যেই পণ্যের তথ্য ও খালাস প্রক্রিয়ায় এমন কারসাজি করা হয়েছে বলে জানান নূর এ হাসান সানজিদা অনসুয়া।
আটক চালান দু’টির মালামাল কন্টেইনার সহ বর্তমানে কাস্টমস হেফাজতে রয়েছে এবং শুল্ক ফাঁকির দায়ে জড়িত সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এআইআর এর সহকারী কমিশনার নূর এ হাসনা সানজিদা অনসুয়া।
প্রসঙ্গত, ইতোপূর্বেও বিল অব এন্ট্রি দাখিল না করে ও মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য খালাসের একাধিক চেষ্টা হয়েছিল। যা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সচেতনতায় সফল হয়নি। সর্বশেষ গত ২৬ জানুয়ারী (রোববার) বিকালে এআইআর এর সহকারী কমিশনার নূর এ হাসনা সানজিদা অনসুয়ার নেতৃত্বে ১ কোটি ৪০ লাখ ২০ হাজার পিস শলাকার বিরাট সিগারেটে চালান আটক করা হয়েছিল। যা আমদানির ঘোষণা পত্রে উল্লেখ ছিল শুকনো মাশরুমের কথা।
বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস