জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার জয়হার দাখিল মাদ্রাসা্র ১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী প্রতি মাসে সরকারি কোষাগার থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা বেতন পেলেও পড়ান ৩৭ শিক্ষার্থীকে। শিক্ষকরাও বিস্যালয়ে জানান নিজেদের মর্জিমত সময়ে। কোনোকোনো দিন যানই না। দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে তাদের এই ‘মামাবাড়ি’ মার্কা পেশাদারিত্ব। আবার তাদেরকে দেখভাল করার জন্য নিয়োজিত কর্মকর্তারাও প্রত্যন্ত এই অঞ্চলে নিয়মিত যাননা বলে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।
মাদ্রাসায় সাংবাদিকেরা গিয়ে দেখতে পায়, প্রাত্যাহিক সমাবেশে লাইন করে ৩৭ জন শিক্ষার্থী জাতীয় সংগীত গাইছে। আর তাদের সামনে উপস্থিত আছে মাত্র ৫ জন শিক্ষক! অথচ থাকার কথা ১৯ জন। মাদ্রাসাটির হাজিরা খাতায় অনেক শিক্ষার্থীর নাম থাকলেও ক্লাসরুম যেন নীরব শ্মশান!
প্রথম শ্রেণীতে ২ শিক্ষার্থীকে পাওয়া গেলেও তাদের হাতে কোনো বই কিংবা খাতা কলম নেই। তৃতীয় শ্রেণিতে ২ জন, পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৪ জন, সপ্তম শ্রেণিতে ৭ জন, অষ্টম শ্রেণিতে ৫ জন, নবম শ্রেণিতে ৯ জন ও ১০ শ্রেণিতে ৫ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। দ্বিতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে গিয়ে সাংবাদিকদের চক্ষু চড়কগাছ হয়ে গিয়েছিল। কারণ সেখানে কোনো শিক্ষার্থীই নেই।
এলাকাবাসী জানান, মাদ্রাসার অনেক অনিয়ম আছে এসব বলে লাভ কি? অনিয়ম দুর্নীতির কারণে সুপারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও হয়েছে। সুরাহা কিছুই হয়নি।
দুর্নীতি আর অনিয়মের কারণ জানতে সুপারের মোবাইল ফোনে একাধিবার ফোন দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য নিয়ামুল ইসলাম মতিন সাংবাদিকদেরকে এইসব শিক্ষকদের বিরুদ্ধে লেখার উৎসাহ দেন।
আগের বছর পুরাতন ইউএনওর সাথে এই প্রতিষ্ঠানে গিয়েছেন কিন্তু চলতি বছর যাননি বলে সাংবাদিকদের জানান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার টিএম আবদুল হামিদ।
বার্তাবাজার/এসজে