মুজিববর্ষ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আবেদন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ১০০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষণা দেয়া মুজিববর্ষে মানবিক কারণে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন এক আইনজীবী। মঙ্গলবার(১০ মার্চ) সকালে ডাকযোগে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. ইউনুছ আলী আকন্দ রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এই আবেদন পাঠান।

আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া এদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও একজন প্রথম শ্রেণির নাগরিক। মুজিববর্ষ পালনের দিন (১৭ মার্চ) উপলক্ষে খালেদা জিয়াকে যে কোনো শর্তে সব ধরনের দণ্ডের মার্জনা, বিলম্বন ও বিরাম মঞ্জুর করার এবং যেকোনো ধরনের দণ্ডস্থগিত বা দন্ড মওকুফের আবেদন করছি।
একইসাথে একজন বয়স্ক মহিলার অসুস্থতার কথা বিবেচনা করে খালেদা জিয়াকে আগামী ১৭ই মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে মুক্তি দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপনের অনুরোধ জানান আইনজীবী ড. ইউনুস আলী আকন্দ।

আপনি কেন খালেদা জিয়ার মুক্তির আবেদন করলেন, যেখানে বিএনপি নেতারা আবেদন করেননি? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, আমি কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে নয়, ১৬ কোটি মানুষের পক্ষ থেকে মানবিক কারণে ও জনস্বার্থে আমি এ আবেদনটি করেছি

আবেদনে বলা হয়, মুজিব শত বর্ষে বয়স্কা ১ম শ্রেণীর নাগরিক অসুস্থ মহিলাদের জেল থেকে মুক্তি দিলে, বঙ্গবন্ধুর আত্মাও শান্তি পাবে। কারণ বঙ্গবন্ধু ছিলেন ক্ষমাশীল। আজ বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে বেগম খালেদা জিয়াকেও ক্ষমা করে দিতেন। ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানীদের হাতে বন্দি হলে তিনি (বঙ্গবন্ধু) যে স্বাধীনতা ঘোষনা করে গেছেন, তা বেগম খালেদা জিয়ার স্বামী জিয়াউর রহমানের কন্ঠে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে বিভিন্ন সময় ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চের পর
রেডিওতে শোনা গেছে। ১৯৭১ সালে বেগম খালেদা জিয়া স্বাধীনতার জন্যই দীর্ঘ নয় মাস পাকিস্তানীদের হাতে কারাগারে বন্দি ছিল। স্বাধীনতার পর তিনি দীর্ঘ নয় বছর গনতন্ত্রের জান্য এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করে ২ বার প্রধানমন্ত্রী হন এবং আওয়ামী লীগও তিন বার ক্ষমাতায় আসে। আর যদি বেগম খালেদা জিয়া গনতন্ত্রের জন্য ওই লড়াই না করতেন তাহলে হয়ত আওয়ামী লীগও ক্ষমতায় আসতে পারতো না। তাই বলা যায় গণতন্ত্রের জন্য দুই নেত্রীর লড়াই একইরূপ।

আবেদনে আরো বলা হয়, খালেদা জিয়াসহ সকল অসুস্থ বৃদ্ধা সিনিয়র সিটিজেন মহিলাদের সংবিধানের প্রস্তাবনা, ৪৮(৩), ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দন্ড মওকুফের জন্য জনস্বার্থে এই আরজি করছি। জিয়াউর বহমান মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর কমান্ডার ছিলেন, যুদ্ধে সাহসিকতার ফল স্বরুপ বীর উত্তম খেতাব পেয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দেয়া সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং অনুচ্ছেদ ১১অনুযায়ী আইনের শাসন ও মানবাধিকার লংঘন হচ্ছে।

ড. ইউনুস আলী আকন্দ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার একটি আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন নিয়ে অংশ নিয়েছিলেন। (সূত্র-মানবজমিন)

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর