ঢাকা থেকে মাওয়ার দূরত্ব ৩৫ কিলোমিটার। এই পথটুকু পাড়ি দিতে সময় লাগবে মাত্র ২৭ মিনিট। অন্যদিকে ঢাকা থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গার দূরত্ব ৫৫ কিলোমিটার। যেতে সময় লাগবে মাত্র ৪২ মিনিট। যাত্রাও হবে নির্বিঘ্ন। সড়ক পথেই পাড়ি দেয়া যাবে এই দূরত্ব।
যদিও এখনই সড়ক পথে সরাসরি ভাঙ্গা পর্যন্ত যাওয়া যাবে না। পদ্মা সেতু হওয়ার পর এ সুফল ভোগ করা যাবে। তবে এখন ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত যাওয়া যাবে।
এসবই সম্ভব হচ্ছে এক্সপ্রেসওয়ে চালুর মাধ্যমে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) চালু করা হচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে। ওই দিন সকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের প্রথম এই এক্সপ্রেস হাইওয়ের উদ্বোধন করা হবে। সদ্য নির্মিত এক্সপ্রেসওয়ে চার লেনের। সঙ্গে সড়কের দুই পাশে থাকছে সাড়ে ৫ মিটার করে (একেক পাশে দুই লেন করে) দুটি সার্ভিস লেন। যেগুলো দিয়ে স্থানীয় পরিবহন যাতায়াত করবে।
ফরিদপুরের অবহেলিত ভাঙ্গা উপজেলা কোন সরকারের আমলেই তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি। বর্তমান সরকার আসার পর রাজধানী ঢাকার সাথে যোগাযোগের মহাপরিকল্পনার অংশ হিসাবে বাস্তবায়ন করা হয় দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে। এ সড়কের জন্য রাজধানীর সাথে দেশের দক্ষিনাঞ্চলের ২১ জেলার সাথে যোগাযোগ দ্রুততর ও সহজ হবে। পাশাপাশি পদ্মা সেতু সম্পন্ন হলে এর শতভাগ সুফল মিলবে বলে মনে করছেন সকলে। একই সাথে এই এলাকায় মিল কারখানা স্থাপন হবে দ্রুততর। এতে এলাকার মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে ব্যাপকভাবে। সড়কটির কারনে এলাকার মানুষের অর্থনৈতিক, সামজিকসহ সকল বিষয়ে ব্যাপক পরিবর্তন হবে বলে বিশিষ্টজনেরা মনে করছেন।
এ এক্সপ্রেসওয়ে চালু হওয়ার ফলে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গের ২৫ জেলার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা তরান্বিত হবে। তাছাড়া রাজধানী ঢাকার সাথে পায়রা-মোংলা এবং বেনাপোল বন্ধরের সাথে সরাসরি বাণিজ্যিক প্রসার ঘটবে।
এই প্রকল্পে প্রথমে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬ হাজার ২৫২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। পরবর্তীতে সংশোধিত ডিপিপিতে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৬ হাজার ৮৯২ কোটি ২৮ লাখ টাকা।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, চার লেনের এই এক্সপ্রেসওয়ে কারনে শুধু ভাঙ্গা নয় এই দক্ষিনাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের সাথে রাজধানীর যোগাযোগ সহজ ও দ্রুততর হবে। এই উন্নয়ন আমাদের এই অঞ্চলের চিরচেনা রুপ পাল্টে নতুন রুপ ধারন করবে বলে আমি মনে করি। এটা এই অঞ্চলের মানুষের বিরাট এক প্রাপ্তি।
বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস