দিনাজপুরে চীন ফেরৎ এক শিক্ষার্থীর মধ্যে করোনা ভাইরাস সন্দেহে হোম আইসোলেশনে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ওই শিক্ষার্থী গত ২৭ ফেব্রুয়ারি চীনের জেজিয়াং প্রদেশ থেকে মালেয়শিয়া হয়ে শাহজালাল বিমান বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
সন্দেহ ভাজন ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১৩ দিন আগে সুস্থ্য অবস্থায় চীন থেকে দিনাজপুরে আসে ওই শিক্ষার্থী। গত তিনদিন আগে সে জ্বর ও সর্দিতে আক্রান্ত হয়। এর একদিন পর তার বাবাও জ্বর ও সর্দিতে আক্রান্ত হয়। তবে ওই শিক্ষার্থী এর আগেও অনেকবার জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত হয়েছিল পরিবারের অন্য সদস্যরা জানান।
দিনাজপুর সিভিল সার্জন ডা: মো :আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, ‘আমরা দিনাজপুর জেলার যেসব শিক্ষার্থী কিছুদিনের মধ্যে চীন থেকে বাংলাদেশে আসছে তাদের সবাইকে পর্যবেক্ষণের মধ্যে রেখেছিলাম। এর মধ্যে আমরা দিনাজপুর শহরের উপশহর এলাকায় একজনের অসুস্থ্য হওয়ার খবর পাই। সে চীনের জেজিয়াং প্রদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। গতকাল মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে আমার নেতৃত্বে সিভিল সার্জন অফিসের একটি মেডিকেল দল ওই শিক্ষার্থীর বাড়িতে পরিদর্শন করি। তার শরীরের তাপমাত্রা বেশি কিন্তু এখনো করোনা সম্পকির্ত কোন উপসর্গ তার মধ্যে পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে তার বাবার শরীরেও একই রকম উপসর্গ লক্ষ্য করা গেছে।
তিনি আরও জানান, আমরা গতাকাল রাতেই সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে ঢাকা আইইডিসিআর’কে এ বিষয়ে অবহিত করেছি। বুধবার (আজ) দিনের যেকোন সময়ে রংপুরস্থ আইইডিসিআর এর দায়িত্বে থাকা একটি টীম তার নাক ও গলার লালার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠবে।
দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম বলেন, ‘করোনা ভাইরাস নিয়ে ইতিমধ্যেই আমরা পুরো জেলায় একটি ১৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছি। এর জন্য কাহারোল উপজেলায় নবনির্মিত একটি ২৫ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
জরুরী প্রয়োজনে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে আইসিইউ ইউনিটে ৫ শয্যা বিশিষ্ট একটি আইসোলেশন কেন্দ্র রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও পার্বতীপুর উপজেলার ল্যাম্ব হাসপাতালে ১০ শয্যা বিশিষ্ট একটি আলাদা পরিচর্যা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। করোনা ভাইরাস নিয়ে কেউ যেন আতঙ্কিত না হয় সেদিকেও সবার প্রতি আহবান জানান তিনি।’
বার্তাবাজার/এসজে