সরকারি স্কুলেই চলছে অবৈধ কোচিং ব্যবসা!

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীতে অবাধে চলছে অবৈধ কোচিং বাণিজ্য। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের ভিতরে বসে চালাচ্ছেন এ কোচিং বাণিজ্য। শিক্ষার্থীরা কোচিং না করলে তাদের নাম্বার পত্রে দেওয়া হচ্ছে কম নাম্বার। ফলে বাধ্য হয়ে কোচিং করাচ্ছেন অভিবাবকরা।

সরোজমিনে উপজেলার বেশনাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় বিদ্যালয় ছুটির পর ভবনের মূল ফটকের কেচি গেইটে তালা মেরে ভিতরে কোচিং করাচ্ছেন ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষক কৃষ্ণ কুমার দাস । ২০-২২ জন শিক্ষার্থীকে পরাচ্ছেন তিনি।

মূল ভবনের পাশের ওই বিদ্যালয়ের নব নির্মিত দুটি টিন সিট ভবনে কোচিং ক্লাস নিচ্ছেন অপর ২ সহকারী শিক্ষিকা। তাদের নাম রিপা আক্তার ও রুপা আক্তার বলে জানাগেছে। টিন সিট ভবনের দুটি শ্রেণি কক্ষে ১৫-২০ জন করে শিক্ষার্থীকে কোচিং করাচ্ছেন সহকারী ওই দুই শিক্ষিকা।

এর মধ্যে শিক্ষিকা রিপার কাছে তার নাম ও কোচিং বিষয়ে জানতে চাইলে সে তার নাম পরিচয় না বলে কোচিং ক্লাস হতে বেরিয়ে যান। পরে তড়িঘড়ি করে কোচিংয়ের শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে বিদ্যালয় হতে চলে যায় সে।

পাশের আপর কক্ষে কোচিং ক্লাশ নিচ্ছেন অপর শিক্ষিকা রুপা আক্তার। ওই টিন সিট ভবনটির অর্ধেকাংশে শিলিং থাকলেও বাকি অর্ধেকাংশে শিলিং ও কোন ফেন না থাকায় প্রচন্ড গরমে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ের দিকে মনোযোগ নেই বললেই চলে। তবুও পাঠ দিয়ে চলছেন ওই শিক্ষিকা।

এ ব্যাপারে ওই বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী জামিয়া ও সাদিয়া জানান, ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কৃষ্ণ কমল দাসের কাছে কোচিং করে তারা। ১৫-১৬ জনকে এক সাথে বসিয়ে গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে পড়ান ওই শিক্ষক। প্রতি মাসে ৪ শত করে টাকা নেয় সে।

ওই বিদ্যালয়ের কতিপয় অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা স্কুলে ক্লাস বসার আগে ও ছুটির পড়ে ওই বিদ্যালয়ে কোচিং ক্লাস করিয়ে থাকেন। মাঝে মাঝে স্কুল চলাকালীন সময়েও কোচিং করান কোন কোন শিক্ষক। স্কুলের শিক্ষকদের কাছে কোচিং না করালে তারা পরীক্ষায় ভালো নাম্বার দেন না বলে বাধ্য হয়ে তারা কোচিং করাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আঞ্জুমান আরা জানান, স্কুলে কোচিংয়ের বিষয়ে জানা নেই আমার। আমি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর