করোনাভাইরাস : বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশনে হ্যান্ড থার্মাল স্ক্যানারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা

দেশের একমাত্র চর্তুদেশীয় স্থলবন্দর বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন চেকপোষ্টে হ্যান্ড থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা হলেও ৪০ দিন পর ভারত,নেপাল ও ভুটান থেকে আসা ট্রাক চালকদের হ্যান্ড থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।

সারা বিশ্বে বর্তমানে করোনা ভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে দেশের প্রতিটি ইমিগ্রেশনের মত বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে বসানো হয়েছে মেডিকেল টিম। পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে নোভলে করোনা ভাইরাস বা স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য উন্নত মানের যন্ত্রপাতি নেই মেডিক্যাল টিমের কাছে। হ্যান্ড থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রী ও ট্রাক চালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।

চীনের প্রতিবেশী দেশ ভারত, নেপাল ও ভুটান হয়ে বাংলাদেশ প্রবেশের পথ দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে “করোনা ভাইরাস” বিষয়ক সতর্কতা জারী করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

সারা বিশ্বে মহামারী আকার ধারণ করা নোভেল “করোনা ভাইরাস” প্রতিরোধ ও সনাক্তকরণের জন্য বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হলেও “করোনা ভাইরাস” সনাক্তকরণের জন্য উন্নত মানের সরঞ্জাম না থাকায় হ্যান্ড থামার্ল স্ক্যানার দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছে মেডিক্যাল টিমটি।

গত ২৮ জানুয়ারী (মঙ্গলবার ) থেকে পঞ্চগড় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বাংলাবান্ধা ইমগ্রিশেন চেকপোষ্টের একটি কক্ষে শুধুমাত্র পাসপোস্টধারী যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু করে একটি মেডিক্যাল টিম দ্বারা।

সম্প্রতি বাংলাদেশেও ৩ জন আক্রান্ত হলে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ৪০ দিন পর সোমবার (৯ মার্চ ) থেকে বাংলাবান্ধা ইমগ্রিশেন চেকপোষ্টের বাহিরে একটি ঘরে হ্যান্ড থামার্ল স্ক্যানার দিয়ে ভারত,নেপাল ও ভুটান থেকে আসা ট্রাক চালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু করে।

বাংলাবান্ধা ইমগ্রিশেন দিয়ে আসা যাত্রী ও ট্রাক চালকদের মাত্রাতিরিক্ত জ্বর, সর্দি, কাশি, হাচি, শ্বাসকষ্ট, গলা ব্যাথা হচ্ছে কিনা তা শুধু হ্যান্ড থামার্ল স্কানার দিয়ে চলছে “করোনা ভাইরাস” নির্ণয়।

ভারতের ফুলবাড়ী এলাকা থেকে আসা ট্রাক চালক বাবুল হোসেন ও ভুটানের ট্রাক চালক শের পা জানান,ভারতে আমাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে এবং বাংলাদেশেও আমাদেরকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছে।

ভারত থেকে আসা দিনাজপুরের পাসপোর্টধারী যাত্রী সুলতানা পারভিন জানান,বাংলাবান্ধার স্থলবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হ্যান্ড থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা হলে ও নেই উন্নত মানের যন্ত্রপাতি। দ্রুত উন্নতমানের থার্মাল স্ক্যানার বসানোর দাবী জানান তিনি।

সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ ফজলুর রহমান বলেন, বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন চেকপোষ্টে হ্যান্ড থামার্ল স্ক্যানার দিয়ে পাসপোস্টধারী যাত্রীদের পাশাপাশি ট্রাক চালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। ২৮ জানুয়ারী থেকে এ পর্যন্ত ১০ হাজার ১ শ ৯৮ জন যাত্রীদের আমরা স্ক্যানিং করেছি। এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন কাউকে আমরা পায়নি। সুস্থ যাত্রীরা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। আমাদের এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ইতিপুর্বে ৫ শয্যা বিশিষ্ট আইসোলেশন ওয়ার্ড হিসেবে আমরা প্রস্তত রেখেছিলাম। বর্তমানে আমরা ১০ শয্যা বিশিষ্ট আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তত করে রেখেছি। সোমবার সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ২শ ৫৮ জন পাসপোর্ট ধারী যাত্রী ও ২শ ৬০ জন ভারতে,নেপাল ও ভুটান আসা ট্রাক চালকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে।

বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর