নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে স্বামীকে তালাক, হয়রানির শিকার মেয়ের পরিবার (ভিডিওসহ)

কোনো স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিয়ে যদি আরেকটি বিয়ে করে, আমাদের সমাজে তাকে কি বিয়ে বাণিজ্য বলে? প্রশ্নের উত্তরটা হয়তো আপনাদের জানা আছে । ধোঁকাবাজি এবং একাধিক বিয়েই যার কান্ড, তার ফাঁদে পড়ে একজন মেয়ে। আর তার প্রতিবাদ করায় উল্টো তাকে পোহাতে হচ্ছে নানা রকেম বঞ্চনা।

সমাজে সম্মানহানি করে মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে সংবাদ প্রচার, মোবাইল ফোনে হুমকি এবং হামলা-মামলাসহ মেয়েটিকে প্রতিনিয়তই থাকতে হচ্ছে আতঙ্কে। আবার সেই প্রতারককে টাকা না দেওয়ায় বেজায় চটেছেন রাজিয়া সুলতানা নামক ভুক্তভোগী মেয়েটি ও তার মায়ের ওপর। উঠে পড়ে লেগেছেন তার মায়ের রাজনৈতিক অঙ্গনকে কলুষিত করতে। অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘‘বার্তা বাজার’’ এর অফিসে এসে এমন প্রতারণার অভিযোগ করেছেন কাজী রাজীয়া সুলতানা ও তার পরিবার।

কাজী রাজিয়া সুলতানা জানায়, ২০১৭ সালের দিকে লন্ডনে লেখাপড়া করতে যান তিনি। সেখানে রফিকুর রহমানের সাথে পরিচয়। দু-জনে মিলে শুরু করেন রেস্টুরেন্টের ব্যবসা। সেই থেকেই শুরু হয় প্রেম-ভালবাসা।

সেই প্রেমের চুড়ান্ত পরিণতি হিসেবে ২০১৮ সালে ১৬ মার্চ ১০ লক্ষ টাকা দেনমোহরে রফিকুর রহমানকে বিয়ে করেন কাজী রাজিয়া সুলতানা। রফিকুর তার সাথে যথারীতি সংসার করে আসছিলো । কিন্তু হঠাৎ এক রাতে একটি ছবিকে কেন্দ্র করে তাদের সংসারের ভালবাসায় ভাটা পরা শুরু হয়।

রাজিয়া বলেন, “আমার স্বামী রফিকুরের মোবাইল সব সময় লক করা থাকে। কিন্তু ওইদিন রাতে সে মোবাইল লক না করে বাথরুমে চলে যায়। এ সুযোগে আমি মোবাইলটি হাতে নিয়ে গ্যালারিতে ঢুকতেই চোখ কপালে উঠে যায়। প্রথমে যদিও একজন মেয়ের ছবি দেখি পরবর্তীতে গ্যালারির আরও ভিতরে ঢুকতেই তার মুখোশ উন্মোচন হতে থাকে। তখন তার সাথে একজন মেয়ে ও বাচ্চাদের ছবি দেখে আমি রহস্যের যোজন-বিয়োজনের বেড়াজালে পড়ে যাই।

ছবিতে রফিকুর রহমান ও তার প্রথম স্ত্রী আয়েশা আক্তার আফরিন। -ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া।

আমি যখন তাকে এটা নিয়ে জিজ্ঞেস করতে যাই, প্রথমাবস্থায় অনেক রাগারাগি করে। তারপর আমাকে মারধর শুরু করে। তখন থেকেই আমাদের সম্পর্কটা ভাল থাকে না। আমি পরবর্তীতে জানতে পারি তার ৩ সন্তানসহ আরও একজন স্ত্রী আছে। যেটা আমার থেকে আড়াল করা হয়েছিলো। এমনিক তার পরিবারের কারও সাথে আমাকে দেখা করায়নি রফিকুর”।

এছাড়াও রফিকুরের পাসপোর্টে দেখা যায়, তার স্ত্রীর জায়গায় আগের স্ত্রী আয়েশা আক্তার আফরিনের নাম বিদ্যমান। অপরদিকে, আয়েশা আক্তার আফরিনের স্বামীর নামের জায়গায় রফিকুরের নামও থাকতে দেখা যায়। এমনকি বাচ্চাদের জন্ম সনদেও পিতা হিসেবে রফিকুরের নাম ও মাতা হিসেবে আয়েশা আক্তারের নাম উল্লেখ রয়েছে।

রফিকুর রহমানের পাসপোর্টে বৈবাহিক অবস্থায় প্রথম স্ত্রীর নাম। -ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া।

রাজিয়া আরও জানায়, “আমার নামে একটা ব্যবসা আছে। সেই ব্যবসা থেকেও অনেক টাকা দিতে হয় রফিকুরকে। আমার কাছে সকল টাকা দেয়ার রিসিট আছে,যা কখনও ফেরত দেয়নি। আমার নামে ও আমার পিতা-মাতার নামের একটা ব্যংক একাউন্ট থেকে লোন উত্তোলন করে একটি গাড়ি কিনে দেয়ার জন্য চাপ দেয়। আমি যতটুকু পেরেছি সহযোগিতা করেছি। প্রথমে গালিগালাজ করতো রফিকুর। তারপর একদুইটা চর-থাপ্পর, তারপর সে এতটা বেপরোয়া হয়ে যায় যে, কথায় কথায় গায়ে হাত তোলতো। মশার ব্যাট থেকে শুরু করে বাসায় যা-কিছু হাতের কাছে পায়, এমনকি অফিসেও সকল সহকর্মীদের সামনে মুখে পানি ছুঁড়ে মারতো। নানান রকমভাবে গালিগালাজতো করতোই।

রফিকুরকে ২০১৯ সালে জুন মাসের ৭ তারিখ তালাক দেন রাজিয়া। -ছবিঃ ভিডিও থেকে নেয়া।

এত নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আমি পরিবারের সাথে কথা বলে গত ২০১৯ এর জুন মাসের ৭ তারিখ তাকে তালাক দিতে বাধ্য হই। এমনকি তার কাছে কোনো টাকা পয়সাও ফেরৎ চাইনি। বাংলাদেশি আইন মেনে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ৪ তারিখে পর্তুগাল প্রবাসী এক ছেলেকে বিয়ে করি। বিয়েতে স্বামীর মতামতের ভিত্তিতে আমি কাবিননামায় কুমারী শব্দটি উল্লেখ করি।

তারপর থেকে রফিকুর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকগুলো ফেইক আইডি খুলে আমার ব্যাক্তিগত ছবি ভাইরাল করে দেয়। ছবিগুলোতে মাথা আমার কিন্তু বডি অন্যজনের। সে প্রতিনিয়ত এমনটি করে গেছে। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে সরাসরি আমার ফোনে একটি বার্তা পাঠায়। এতে সে লিখে, যদি আমি তার কাছে ফেরৎ না যাই তাহলে আমার জীবন নষ্ট করে ফেলবে। আর আমাকে অন্য কারও হতেও দিবে না।

১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে রাজিয়া সুলতানাকে পাঠানো মোবাইল বার্তা। ছবিঃ ভিডিও থেকে নেয়া।

তারপর আমার এসব ছবি ছাড়ানোর অভিযোগ এনে পর্ণগ্রাফি আইনে রফিকুরের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছি এবং আমার জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে কয়েকটি থানায় জিডি করি”।

এসব অভিযোগের বিষয় জানতে রফিকুরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে “বার্তা বাজার ”। তিনি জানান,রাজিয়া সুলতানা চুরি করে আরেকজনের সাথে বিয়ে করে ধরা খেয়েছে, তাই এটার থেকে বাঁচার জন্য সে কুমারী সেজে বিয়ে করেছে। আমাকে কোনো তালাকের কাগজ দেখাতে পারেনি। বিবাহিত থাকা অবস্থায় আরেজনকে বিয়ে করে কিভাবে? ওইটা ধরা পড়ার পর ছেলেও (বর্তমান স্বামী) তার সাথে সম্পর্ক রাখেনি, ছেড়ে চলে গেছে। আর আমাকে খারাপ বানানোর জন্য কোনো পথ পাচ্ছে না তাই আপনাদের কাছে গিয়ে বানিয়ে বলার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশে একসাথে দুইটা স্বামী রাখতে পারে না এবং কুমারী সেজে বিয়েও করতে পারে না।

রফিকুরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে “বার্তা বাজার ”। ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া।

তিনি আরও বলেন, অনেক সাংবাদিক ঘটনা জানে ও বাংলাদেশের মূলধারার কয়েকটি জাতীয় পত্রিকা যেমন: নয়া দিগন্ত, অন্য দিগন্ত, নতুন কাগজসহ বেশ কয়েকটি পত্রিকায় নিউজ হয়েছে।

ভুক্তভোগী রাজিয়া সুলতানা অভিযোগ করে বলেছিলো, সে গত ২০১৯ সালের জুন মাসের ৭ তারিখে রফিকুরকে তালাক দিয়েছে। সত্যতা যাচাইয়ের জন্য রাজধানীর ওয়ারি এলাকায় কাজী মাহবুবুর রহমানের অফিসে গিয়ে তালাকের সত্যতা ঠিক আছে বলে জানা যায়।

রাজধানীর ওয়ারি এলাকায় কাজী মাহবুবুর রহমানের অফিসে গিয়ে তালাকের সত্যতা ঠিক আছে বলে জানা যায়। -ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া।

এদিকে, রাজিয়া সুলতানার মা নাজমা পারভিন বর্তমানে যুব মহিলা লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। তার ও পরিবারের সম্মানহানি করতে তার বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্ক, চাঁদাবাজি, জায়গা দখলসহ নানারকম হয়রানি ও হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করে পরিবারটি।

যুব মহিলা লীগ নেত্রী নাজমা পারভিন । -ছবিঃ ভিডিও থেকে নেয়া।

ভিডিও…..

স্বামীর নির্যাতনে বাধ্য হয়ে স্ত্রীর ডিভোর্স,পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি

স্বামীর নির্যাতনে বাধ্য হয়ে স্ত্রীর ডিভোর্স,পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি

Gepostet von Barta Bazar am Sonntag, 8. März 2020

বার্তা বাজার/এস.আর/এম.সি/এ.কে.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর