বিয়ের নামে প্রতারণা করাই তার নেশা

স্কুলে পড়াকালীন প্রথম বিয়ে তার। সেই স্বামীর সংসারে থাকা অবস্থায় করে দ্বিতীয় বিয়ে। টাকাপয়সা হাতিয়ে নিয়ে ছাড়েন দুই স্বামীর সংসার। আর এসব বিয়ের পেছনে রয়েছে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের নানা কাহিনী। বর্তমানে তার গভীর প্রেমে মগ্ন আরেক যুবক।

নাম তার রিয়া। কিন্তু নানান নামে পরিচিত তিনি। বিভিন্ন পরিচয়ে একের পর এক বিয়ে করেছেন। বিয়ে তার পেশা হয়ে ওঠে। বয়স মাত্র ১৬ বছর শবে এসএসসি পরীক্ষার্থী। অভিনব প্রতারণার গল্প সাজিয়ে একের পর এক বিয়ে করাই রিয়ার কাজ।

চালচলনে এতটাই স্মার্ট তিনি আগে কখনো বিয়ে করেছেন তা বোঝার কোনো উপায় নেই। রিয়া নিজেকে কখনো তামান্না রহমান কখনো সুমনা খানম আবার কখনো তাহামিনা আক্তার নামে পরিচয় দিয়ে চলেন।

স্মার্ট চলাফেরা আর মৌখিক ইংরেজি সুনিপুণভাবে রপ্ত করে অভিজাত চলাফেরা দিয়ে ভদ্র পুরুষ সাধারণকে প্রতারণার জালে আটকানোই ছিল তার মূল লক্ষ্য। সম্প্রতি একজন প্রবাসীকে বিয়ে করে তার থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে তাকে ডিভোর্স দেয় রিয়া।

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির যে কারণগুলো দেখানো হয়েছে, তার মধ্যে প্রধান একটি হচ্ছে, প্রবাসী আয়। দেশের সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স থেকে। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যেমন ঘটেছে, তেমনি বেঁচে আছে তাঁদের ওপর নির্ভরশীল লাখ লাখ পরিবার।

কিন্তু আজ নিজের দেশেই প্রতারণার শিকার হচ্ছে এই রেমিট্যান্স দাতারা। প্রতরণার শিকার হওয়া এমন এক প্রবাসীর সাথে দেখা হয় গোপালগঞ্জ আদালত চত্বরে। হাতে মামলার কাগজ পত্র বয়স্ক বাবাকে নিয়ে চোখের পানি মুছতে মুছতে হেঁটে চলছেন রাসেল মোল্যা নামে এক প্রবাসী যুবক।

রাসেলের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমরা দুই ভাই সৌদি আরবে থাকি। আমার বড় ভাই রেজাউল মোল্যার সাথে গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার লখাইর চর এলাকার সিরাজ মুন্সির মেয়ে রিয়া আক্তারের মোবাইল ফোনে সম্পর্ক হয়। সম্পর্কের এক পর্যায়ে মোবাইল ফোনে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের হওয়ার পর থেকেই রিয়া রেজাউলের কাছ থেকে বিভিন্ন উপায়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

টাকা হাতিয়ে নিয়েই থেমে থাকেনি রিয়া উল্টো আমাদের কে হয়রানি করা আর টাকা না দেওয়ার জন্য একটি মামলাও করেছেন। শুধু তাই নয় এই রিয়া বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন নাম ব্যবহার করে বিয়ে করে স্বামীর থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়ে তাকে ডিভর্স দিয়ে দেয়। রেজাউলের আগে গোহালা ইউনিয়নের মনিরকান্দি সুমন বেপারী নামের এক যুবকের সাথে রিয়ার বিয়ে হয় সেখানে রিয়া নিজেকে সুমনা বলে পরিচয় দিয়ে বিয়ে করে। সুমনের থেকেও রিয়া মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে সুমন কে ডিভোর্স দিয়ে দেয়।

এ ব্যপারে প্রতারনার শিকার রেজাউলের সাথে কথা হলে তিনি জানান, রিয়া আমার সাথে প্রতারনা করেছে সে বিবাহিত কিন্তু আমার কাছে গোপন রেখেছিল। তবুও আমি সব কিছু মেনে নিয়েছিলাম। বিবাহিত জীবনে আমি সুখি ছিলাম না। রিয়া বিভিন্ন উপায়ে আমার থেকে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

এখন আরো আমার পরিবার কে হয়রানি করছে। আমাকে ফোনে হুমকি দিচ্ছে তারে ১০ লক্ষ টাকা দিতে হবে না হলে সে আমার নামে নারী নির্যাতন মামলা করবে। সর্ব শেষ রিয়ার বাবা বাদি হয়ে আমার ছোট ভাই রাসেল মোল্যা,আমার বাবা আউয়াল মোল্যাকে আসামী করে একটি মামলা করেছেন। আমি সর্বস্য হারালাম আবার আমার পরিবার হয়রানির শিকার। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুষ্ঠ বিচার দাবী করছি।

রিয়ার প্রথম স্বামী সুমন ব্যপারীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি রিয়ার দ্বারা অনেক ভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছি। এ দেশের আইন নারীর পক্ষে রায় দেয়। কিন্তু প্রতিনিয়ত পুরুষ নির্যাতন হচ্ছে তা কেউ দেখেও দেখছে না। আমি চাই প্রতারক রিয়ার সঠিক বিচার হোক। নিরবে পুরুষ নির্যাতন বন্ধ হোক।

রিয়ার বাবার করা মামলার আসামী রাসেল বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান খাত আমাদের প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। প্রবাসীদের টাকায় লেগে আছে আমাদের শ্রম-ঘাম, অশ্রু ও দীর্ঘশ্বাস। আমাদের জীবনকে নিরাপদ ও স্বস্তিকর করে তোলার দায়িত্ব রাষ্ট্র ও সরকার এড়াতে পারে না।

আমি দায়িত্বরত বেক্তিদের কাছে অনুরোধ করবো আমাদের প্রবাসীদের পাশে থেকে আমাদের সহযোগীতা করেন। দেশকে এগিয়ে নিতে আমাদের পাশে থাকেন। রিয়া নামের হিস্র মানব থেকে আমাদের রক্ষা করুন।

এ ব্যপারে রিয়ার বাড়িতে গেলে বাড়ি তালা বদ্ধ দেখা যায় ও এলাকার কেউই কথা বলতে রাজি হয়নি।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর