বিশ্বের ১০৩টি দেশের মত বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে নোভেল করোনা ভাইরাস। চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা দিচ্ছেন বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরামর্শ। এরই মধ্যে বাংলাদেশে ফেসবুকের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে কিছু মনগড়া পরামর্শ। যা মানব স্বাস্থের জন্য মোটেও উপকারী নবা। বরং হতে পারে নান ধরণের ক্ষতি। আসুন সেগুলো সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা কি বলে জেনে নেই।
তাপমাত্রা ও আইসক্রিম পরিহার: তাপমাত্রায় নোভেল করোনা ভাইরাস মরে যায় বলে সোশাল মিডিয়াতে অনেক ধরনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। গরম পানি পান করা, গরম পানিতে গোসল করা, এমনকি হেয়ারড্রায়ার ব্যবহার করার জন্যও বলা হচ্ছে।
ইউনিসেফ এমন পরামর্শ দিয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হলেও এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইউনিসেফ বলছে এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা সংবাদ। কোনো ফকু মানব দেহের বাইরে বেঁচে থাকতে পারে না। দেহের বাইরে অবস্থান করা করোনা ভাইরাসকে মেরে ফেলতে কমপক্ষে ৬০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা লাগবে। যা গোসলের গরম পানির চেয়ে বহুগুন বেশী ঠান্ডা।
রূপার জল: জিম বেকার নামের এক মার্কিন ধর্মপ্রচারক রুপা মিশ্রিত পানি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।এই ধর্মপ্রচারকের করা এক টিভি অনুষ্ঠানে এক অতিথি দাবি করেন যে এই জল কয়েক ধরণের করোনাভাইরাস মেরে ফেলতে সক্ষম। অবশ্য তিনি স্বীকার করেন যে কোভিড-১৯ এর ওপর এটা পরীক্ষা করে দেখা হয়নি।
কলোইডিয়াল সিলভারের নামের এই পানির সমর্থকরা দাবি করেন যে এটা অ্যান্টিসেপটিক, এবং নানা ধরনের চিকিৎসায় ব্যবহার করা চলে। কিন্তু মার্কিন স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ পরিষ্কার ভাষায় বলেছে, এই ধরনের রূপা ব্যবহার করে স্বাস্থ্যের কোন উপকার হয় না। বরং এর ব্যবহারে কিডনির ক্ষতি হতে পারে ও লোকে জ্ঞান হারাতে পারে।
১৫ মিনিট অন্তর পানি পান: সম্প্রতি ফেসবুকের একটা পোস্টে করোনাভাইরাসের জীবাণু মুখের মধ্যে ঢুকে পড়লেও প্রতি ১৫ মিনিট পর পর পানি খেলে তা দেহ থেকে বের হয়ে যায় বলে একটা পোস্ট করা হয়েছে। এবং পোস্টে বলে হয়েছে এটা একজন জাপানি ডাক্তারের গবেষণা। আরবিতে করা এমন একটা পোস্ট প্রায় আড়াই লক্ষ শেয়ার হয়েছে ফেসবুকে। কিন্তু লন্ডন স্কুল অব হাইজিন এন্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন বিভাগের প্রফেসর স্যালি ব্লুমফিল্ড জানিয়েছেন এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন পরামর্শ।
ঘরে তৈরি জীবাণুনাশক: করোনা থেকে মুক্ত থাকার একটি উপায় হচ্ছে বারবার জিবাণুনাশক দিয়ে হাত ধোঁয়া। কিন্তু বারবার জিবানূনাশক জেল দিয়ে হাত ধোঁয়ার পর জেল ফুরিয়ে যায় বলে অনেকেই নিজে নিজে জেল বানানোর চেষ্টা করছে। ঘরে থাকা বিভিন্ন এন্টিসেপ্টিক জেল যা দিয়ে সাধারণত মেঝে কিংবা হাড়ি পাতিল ধোঁয়া হয় সেগুলো দিয়ে হাত ধোয়ার কাজ করছেন। যা মোটেও ঠিক না। করোনাপ্রতিরোধী জেল আর ঘরে থাকা সাধারণ জেল এক জিনিস না।
এগুলো ত্বকের জন্য অনেক বড় ধরণের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। অ্যালকোহল যুক্ত হ্যান্ড জেলগুলোতে ৬০%-৭০% অ্যালকোহল থাকে তার সাথে থাকে এমোলিয়েন্ট নামে এক ধরণের পদার্থ যেটা ত্বককে নরম রাখে।
রসুন: ফেসবুকে এমন অসংখ্য পোস্ট দেখা গেছে যেখানে লেখা: যদি রসুন খাওয়া যায় তাহলে সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে “যদিও রসুন একটা স্বাস্থ্যকর খাবার এবং এটাতে এন্টিমাইক্রোবিয়াল আছে” কিন্তু এমন কোন তথ্য প্রমাণ নেই যে রসুন নতুন করোনাভাইরাস থেকে মানুষকে রক্ষা করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই এধরনের প্রতিকারক ব্যবস্থা মানুষের জন্য ক্ষতিকারক নয়। কিন্তু এর মাধ্যমেও ক্ষতি হতে পারে।
সূত্র:বিবিসি