মুন্সীগঞ্জের আলু চাষিদের মুখে হাসি, কোল্ড স্টোরেজ মালিকদের হতাশা
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে আলু চাষিদের মুখে হাসিফুটেছে। মৌসুমের শুরু থেকেই আবহাওয়া আলুচাষিদের অনুকূলে থাকায় চাষিরা এখন সোনায় সোহাগা। যদিও নির্দিষ্ট সময় আলু বপন করতে না পারা এবং আলু উৎপাদন কম হওয়া সত্যেও কৃষক আলুর ন্যায্য দাম পেয়ে খুশি। অন্যদিকে কোল্ড স্টোরেজ মালিকরা হতাশায় ভোগছেন।
জানা যায়, কয়েক বছরের লোকসানের কারনে এবছর কোল্ড স্টোরেজে আর আলু রাখতে চাচ্ছে না কৃষককুল। কোল্ড স্টোরেজে রাখার জন্য বস্তা, সুতলী, লেবার খরচ, গাড়ি ভাড়া ও স্টোরেজের ভাড়া দিয়ে আলুর মূল্য অনেক বেড়ে যায়। আর এ কারনে এবছর ন্যায্য দাম পাওয়ায় চাষিরা জমি থেকেই আলু বিক্রি করছে। আবার কিছু কৃষক দাম বেশি পাবার আশায় আলু গোলাতে (দেশিয় পদ্ধতিতে) রাখছে। তাই কৃষক স্টোরেজে আলু রাখতে আগ্রহী নন। আর এ কারণে কোল্ড স্টোরেজ মালিকরা এখন হতাশ।

মৌসুমের শুরুতে যখন সেচের প্রয়োজন তখন বৃষ্টি হওয়া ও শীত বেশি থাকায় রোগবালাই কম লেগেছে তাই খরচের পরিমান কমে গেছে। অন্যদিকে ঔষধ কোম্পানি গুলো তেমন কোন ঔষধ বিক্রি করতে পারেনি। কয়েক বছরের লোকসানে কৃষক ও কোল্ড স্টোরেজ মালিকদের মোটা অংকের লোকসান গুনতে হয়েছে।
উপজেলার ভূইরা গ্রামের ইদ্রিস দেওয়ান বলেন, কোল্ডস্টোরেজে আলু রাখলে লস হয়। এবছর আলুর ভালো দাম পাওয়ায় জমি থেকেই ২ হাজার মন আলু ৪১৫ টাকা মন দরে বিক্রি করেছি। তবে এবছর আলুর ফলন কম হয়েছে। জমিতে বিক্রি করায় আমি ভালো দাম পেয়েছি। কোল্ড স্টোরেজে রাখলে আনুষাঙ্গিক খরচ বাদদিয়ে লস হয়। তাই কিছু আলু ষ্টোরে না রেখে গোলায় রাখব।
উপজেলার খিদিরপুর গ্রামের আশরাফ হোসেন জন্টু বলেন, গত ৪ বছর আমার প্রায় ১ কোটি টাকার মত লোকসান হয়েছে। লাভের আশায় এবছরও ১শ ৮০ বিঘা জমিতে আলু রোপন করেছি। জমি থেকেই ৪শ থেকে ৪২০ টাকা মন দরে আলু কিক্রি হচ্ছে। তাই আমি এখন বিক্রি না করে অধিক লাভের আশায় কোল্ড স্টোরেজে রাখতেছি।
নেপচুন কোল্ড স্টোরেজের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জিয়াউল ইসলাম বলেন, কোল্ড স্টোরেজ ব্যবসা এখন বন্ধ হওয়ার পথে। কোল্ড স্টোরেজ ভাড়া ২০১৩ সালে ৮০ কেজির বস্তা ৩০০ টাকা ২০২০ সালে ছোট বস্তা ৫০ কেজি একি দামে আছে। ২০১৩ সালে আমাদের বিদ্যুৎ বিল ৩০ থেকে ৩৫ লক্ষ টাকা ২০১৯ সালে বিদ্যুৎ বিল বেড়ে ৬৫ থেকে ৭০ লক্ষ টাকা হয়েছে। ২০১৩ সালে লেবার বিল দিয়েছিলাম ১৮ লক্ষ টাকা ২০১৯ সালে দিয়েছি ৩৩ লক্ষ টাকা। এছাড়া স্টাফের বেতনসহ আনুষাঙ্গিক খরচ রয়েছে।
আমাদের লভ্যাংশ থেকে প্রতিবছর খরচ হওয়ায় স্টোর চালানোই এখন কষ্ট হচ্ছে। যেখানে (৫০ কেজি)বস্তা প্রতি সরকারি মূল্য ৩২০টাকা সেখানে ১৮০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত রাখতে হচ্ছে। তাই আমরা দিন দিন লোকসানের কবলে পরছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবোধ চন্দ্র রায় বলেন, মৌসমের শুরুতে বৃষ্টি হওয়া ও শীত বেশি থাকা এবং ইউরিয়া সার কম ব্যবহার করায় কৃষক লাভবান হবে। আশা করা যাচ্ছে এবছর আলুর ফলন ভালো হবে এবং কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবে।
বার্তাবাজার/এমকে