ঢাকার আশুলিয়ায় চাঁদাবাজির টাকা না পাওয়ায় এক যুবলীগ নেতা রাস্তার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন এমন অভিযোগ এসেছে। আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের তৈয়বপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
১ কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে একটি জিরাবো জিরো পয়েন্ট থেকে তৈয়বপুর পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইয়ারপুর ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক সোহেল মোল্ল্যার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই যুবলীগ নেতাকে প্রধান আসামী করে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে ওই যুবলীগ নেতা পলাতক রয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীর বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে ইয়ারপুর ইউনিয়নের জিরাবো জিরো পয়েন্ট থেকে তৈয়বপুর পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগের কয়েক কোটি টাকার অর্থায়নে একটি রাস্তা সংস্কারের কাজ করছিলেন সাগর বিল্ডার্স ও এমডিই। সাগর বিল্ডার্স এর ইঞ্জিনিয়ার মাজহারুল ইসলাম এর কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন ইয়ারপুর ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক সোয়েল মোল্লা সহ তার সহযোগীরা। এসময় ইঞ্জিনিয়ার চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করায় যুবলীগ নেতা সন্ত্রাসীদের নিয়ে ওই রাস্তার কাজ বন্ধ করে দেন।
এদিকে ওই যুবলীগ নেতা রাস্তায় কর্মরত সাগর বিল্ডার্সের কর্মচারী রাকিব মিয়া (২৪), কল্লাদ মিয়া (২৩) ও মাজহারুল মিয়াকে (৩৮) উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে আহত করেন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনার পর থেকে রাস্তার কাজ বন্ধ থাকায় এলাকার গার্মেন্টস শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। এব্যাপারে স্থানীয়রা অবিলম্বে ওই যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
সৃষ্ট ঘটনার প্রেক্ষিতে শনিবার (২০ এপ্রিল) সাগর বিল্ডার্সের প্রকৌশলী মাজহারুল ইসলাম যুবলীগ নেতা সোহেল মোল্লাকে প্রধান আসামী এবং আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
সাগর বিল্ডার্সের প্রকৌশলী মাজহারুল ইসলাম বলেন, সন্ত্রাসীদের ভয়ে আমরা এলাকা ছেড়ে অন্য এলাকায় এসে বসবাস করেছি।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ওই যুবলীগ নেতার কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এই ঘটনার সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমার সুনাম নষ্ট করার জন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করছে।
আশুলিয়া থানার সুযোগ্য অফিসার ইনচার্জ শেখ রিজাউল হক (দিপু) বলেন, মামলার আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজরা কোন দলের লোক হতে পারে না বলেও জানান তিনি।