চসিক নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের ব্যপারে সিদ্ধান্ত নিবেন মোশাররফ : কাদের

চসিক নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের ব্যাপারে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত বলে বিবেচনা করার কথা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

রোববার (৮ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, “আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশে অংশগ্রহণ সহ তাঁদের বিজয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রার্থী মনোনয়ন হতে শুরু করে যাবতীয় দায়িত্ব পালনের জন্য চসিক নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। যার প্রধান সমন্বয়কারী হলেন দলের প্রবীণ নেতা ও প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। দলের স্বার্থে নির্বাচন পরিচালনায় তিনি যে কোন সংশোধন, সংযোজন, পরিবর্তন আনার ক্ষমতা রাখেন। তাঁর উপর দলের আস্থা আছে। তিনি যা করবেন দল ও দেশের ভালোর জন্যই করবেন। কাজেই তিনি বিদ্রোহী প্রার্থীদের ব্যাপারে যা সিদ্ধান্ত নিবেন। তাই চূড়ান্ত বলে বিবেচনা করা হবে।”

তিনি আশা করেন, দলের ভাবমূর্তি ও সাংগঠনিক দৃঢ়তা দরে রাখতে বিদ্রোহীরা যে কোন দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিবেন।

বিদ্রোহীদের প্রতি মহানগর আওয়ামী লীগ সহ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ পূর্ণ আস্থা ও আশা পোষণ করলেও বিদ্রোহীদের মাঝে বিরাজ করছে চরম ক্ষোভ ও হতাশা। বিকালে সার্কিট হাউজে দলের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় নেতাদের মধ্যে বৈঠক চলাকালেও যথারীতি বিক্ষোভ প্রকাশে ব্যস্ত ছিলেন মনোনয়ন বঞ্চিত কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা। বর্তমানে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নানান সূত্রে অভিযোগ করে তাঁরা বলেন, “বর্তমানে যাঁদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তাঁদের অধিকাংশই লবিং ও তদবিরের মাধ্যমে দলীয় সমর্থন হাতিয়ে নিয়েছেন। কার্যত তাঁরা দলীয় কার্য্যক্রম ও দুঃসময়ে কখনো মাঠে ময়দানে দলের জন্য কিছু করেননি। এছাড়াও যাঁদের মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাই কার্য্যক্রমে তাঁদের কারো মনোনয়ন পত্র বাতিল বা অযোগ্য বিবেচিত হয়নি। তাহলে তাঁদের কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে কেন নাম প্রত্যাহার করতে বলা হচ্ছে।”

উল্লেখ্য, আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদ হতে শুরু করে কাউন্সিলর পদ পর্যন্ত এবার দেখা গিয়েছে বিরাট পরিবর্তন। গতবার বিপুল ভোটে জয়ী ও বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছিরের পরিবর্তে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরীকে। মেয়র পদে রেজাউল করিম চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া নিয়ে আ জ ম নাছির উদ্দিন দলীয় সিদ্ধান্ত হিসেবে সহজভাবে মেনে নিলেও কাউন্সিলর পদের পরিবর্তনকে মানতে নারাজ বিগত নির্বাচনে মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলরগণ।

তাঁরা দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। বিদ্রোহীদের এমন সিদ্ধান্ত দলীয় ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়া সহ নির্বাচনে একক প্রার্থীর বিজয়ে বাঁধা হওয়ার আশঙ্কায় মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এ যাবত বহুবার তাঁদের নাম প্রত্যাহারের আহবান সহ একাধিক বৈঠক করলেও কোন কাজ হয়নি। আজ রোববার (০৮ মার্চ) পতেঙ্গায় বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণের কাজ পরিদর্শন শেষে বিকালে সার্কিট হাউজে বিদ্রোহী প্রার্থীদের ব্যাপারে আলাপ আলোচনা করেন। যার শেষে তিনি চসিক নির্বাচন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের গঠিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক ও প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বিদ্রোহীদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবেন বলে জানান।

বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর