আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। ১৯৭৫ সাল থেকে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিনটি নানা আনুষ্ঠানিকতায় উদ্যাপিত হচ্ছে। নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠায় শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারের বিকল্প নেই। নারীর ভূমিকা সমাজ-সভ্যতার অগ্রযাত্রার ইতিহাসে পুরুষের সমান্তরাল।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছেলে-মেয়ে একই শ্রেণিকক্ষে বসে পাঠক্রমে অংশ নিলে তাদের মধ্যে স্বাভাবিক বন্ধুত্ব হয়। আর সেখান থেকেই একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরি হয়। তাই রাষ্ট্রকে সহশিক্ষা প্রবর্তন করার পরামর্শ তাদের।
শিক্ষার্থীরা জানান, আমাদের ছেলে সহপাঠি নাই। আমরা স্কুল থেকে বের হই আর ছেলেরা স্কুলে আসে এই জন্য বন্ধুত্ব হয় না। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানান, মেয়েরা আলাদা স্কুলে পড়বে এটাই নিরাপদ-ছেলেদের সাথে পড়লে উগ্র হয়ে যেতে পারে। মেয়ের বান্ধুবী হবে মেয়ে, কোন ছেলের সঙ্গে সে মিশতে পারে না।
কেবল অর্থনৈতিক মুক্তিই এনে দিতে পারে নারী পুরুষের সমতা। আর এই অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য প্রয়োজন শিক্ষা ব্যবস্থায় আমুল পরিবর্তন।
সারাদেশে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সংখ্যা প্রায় চারশ। এর মধ্যে রাজধানীতেই ৪১ টি। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ বিদ্যালয়ে প্রভাতী আর দিবা শাখার মাধ্যমে ছেলে ও মেয়েদের আলাদা পড়ানো হয়। তবে দুএকটি বিদ্যালয়ে সহশিক্ষা অর্থাৎ একই শ্রেণিকক্ষে বসে ছেলে মেয়েরা পড়াশোনা করছে।
গণভবন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা পাপিয়া নাজনীন বলেন, বেশিরভাগ স্কুলেই এখন এই পদ্ধতিতেই ক্লাস নেয়া হয়। আর অভিভাবকরাও এমন স্কুলই খোঁজে যেখানে ছেলে মেয়ে আলাদা পড়ানো হয়। তারা একসাথে পড়াশুনা করাকে নিরাপদ মনে করে না।
গণভবন উচ্চ বিদ্যালয়ের আরেক সহকারি শিক্ষক ফারুক হোসেন বলেন, এসব ক্ষেত্রে ধর্মীয় প্রভাবটা অনেক প্রকট। ধর্মীয় কারণেই অভিভাবকরা চান আলাদাভাবেই পড়াশুনা করানো হোক।
এসবের কারণে একে অপরের প্রতি কমে আসছে শ্রদ্ধাবোধ। একইসঙ্গে ঘটছে মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ফারজানা রহমান বলেন, মনস্তাত্ত্বিকভাবে ছেলে মেয়ে যদি একই সাথে পড়াশুনা করে তাহলে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য এটি ভালো।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থায় গলদ থাকায় পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবের সৃষ্টি হচ্ছে। এর জন্য রাষ্ট্রও দায় এড়াতে পারে না বলে মনে করেন তারা।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন,বেড়ে উঠার সময় ছেলে মেয়ে উভয়ই সমস্যায় পড়তে পারে।তাই সেই সময় তারা কিভাবে চলাফেরা করবে তা পাঠ্যক্রম, শিক্ষকদের তাদের জানানো দরকার।তবে সবচেয়ে বেশি দরকার অভিভাবকদের সচেতনতা।
সাবেক শিক্ষা সচিব এন আই খান বলেন, আমার কাছে মনে হয় শিক্ষকদের এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। তাদের এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন করতে হবে। আর আমাদের একসাথে ক্লাস করার পদ্ধতি আরও অনেক স্কুলে চালু করতে হবে।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি