পটুয়াখালীতে আলোচিত চম্পা হত্যা মামলার প্রধান আসামী স্বামী বাবুল গ্রেফতার

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার আলোচিত চম্পা হত্যা মামলার প্রধান আসামী স্বামী বাবুল হাওলাদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (৭ মার্চ) দুপুর ৩ টায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মইনুল হাসান পিপিএম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মইনুল হাসান পিপিএম জানান, গত ২২ জানুয়ারি চাকামইয়া ইউনিয়নের জামুনিয়া গ্রামের ফাঁকা মাঠের মধ্যে একটি জমিতে মাটির নিচে গর্ত করে পুঁতে রাখা অবস্থায় একটি অজ্ঞাত নামা নারীর মৃতদেহ পাওয়া যায়। কলাপাড়া থানা পুলিশ খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারে বরগুনা জেলার তালতলী থানায় চম্পা নামের ৩২ বছরের একটি মেয়ে হারানোর জিডি হয়েছে।

যার নম্বর ৫৯০ তারিখ ১৪/০১/২০২০ তার সূত্রধরে বাবা চান মিয়াকে খুঁজে আনলে তিনি তার মেয়ের লাশ সনাক্ত করেন। তিনি জানান, গত ১২ জানুয়ারি তার সদ্য বিবাহিতা মেয়ে স্বামী বাবুল হাওলাদারের সাথে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও তিনি মেয়েকে পাননি। ২২ জানুয়ারি চম্পার বাবা চান মিয়া বাদী হয়ে কলাপাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গত ২২ জানুয়ারি ২৩ নম্বর মামলা দায়ের করেন।

তিনি আরও জানান, গত ৬ জানুয়ারি সন্ধ্যার পর পাবনা জেলার আটঘরিয়া থানার এক প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে চম্পার স্বামী বাবুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল জানায়, প্রায় ১০ বছর আগে কোহিনুর বেগম নামে এক নারীকে বিবাহ করে বাবুল। তাদের ঘরে সাত বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

কয়েক মাস আগে কোহিনুর বেগম বাবুল কে রেখে বাবার বাড়ি চলে যায়। চেষ্টা করার পরও প্রথম স্ত্রী ফিরে না আসায় দ্বিতীয় বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং ১ জানুয়ারি চম্পা বেগমকে বিবাহ করে। কিন্তু বিবাহের পরের দিনই প্রথম স্ত্রী আবার ফিরে আসার আকুতি জানায়। একপর্যায়ে বাবুল অপরাপর অপরাধের দ্বিতীয় স্ত্রী চম্পাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

ঘটনার আগের দিন ১১ জানুয়ারি তারা চম্পাকে হত্যা করার জন্য একটি নির্জন স্থান ঠিক করে রেখে আসে এবং ঘটনার দিন সন্ধ্যায় বাবুল অন্য এক সহযোগীকে নিয়ে ওই স্থানে একটি গর্ত খুঁড়ে রাখে। অতঃপর বাবুল তার দ্বিতীয় স্ত্রী চম্পাকে বেড়াতে যাবে বলে ডেকে নিয়ে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি আসলে বাবুল ভিকটিমকে বলে এই মাঠের মধ্যে দিয়ে গেলে তাড়াতাড়ি হবে।

এরপর মাঠের মধ্যে নিয়ে অপরাপর আসামিদের সহযোগিতায় চম্পাকে গলায় ওড়না পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। লাশ গর্তে মাটি চাপা দিয়ে সবাই চলে যায়।
তিনি আরও জানান, বাবুলের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ওড়না, বোরকার উপরের অংশ নিকাব, চম্পার ব্যবহৃত ভ্যানিটি ব্যাগ, গায়ে দেয়ার চাদর খালের মধ্যে কচুরিপানার নিচ থেকে এবং তার বাড়ি থেকে লাশ মাটিচাপা দেয়ার জন্য মাটি খোঁড়ার কাজে ব্যবহৃত কোদাল টি উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার সাথে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।

বার্তাবাজার/কেএ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর