“দুর্নীতি শব্দটার সাথে ড. রাশিদ আসকারীর নামটি যায় না”
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান বলেছেন, দুর্নীতি শব্দটার সাথে উপাচার্য অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারীর নামটি যায় না। চাকরি জীবনের শুরু থেকেই আমি তাকে চিনি।
শনিবার (৭ মার্চ) বেলা ১১টায় উপাচার্যের কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু পরিষদের নির্বাচিত সভাপতি অধ্যাপক ড. রুহুল কুদ্দুস মোঃ সালেহ এবং সাধারণ সম্পাদক সহঃ অধ্যাপক ড. আবু হেনা মোস্তফা জামাল হ্যাপির নেতৃত্বে নবগঠিত কমিটি উপাচার্যের সাথে দেখা করতে গেলে উপ-উপাচার্য এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি আরো বলেন, উপাচার্য হওয়ার আগে থেকেই আমরা তার সাথে বিভিন্ন ভাবে সম্পৃক্ত। গত সাড়ে তিন বছর ধরে তার সাথে সততা, দক্ষতা এবং স্বচ্ছতার সাথে কাজ করে যাচ্ছি। এই অল্প সময়ে যে উন্নয়ন হয়েছে সে উন্নয়নে আমি মনে করি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গই করে নাই বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি উচ্চতার জায়গায় নিয়ে গেছে।
উপ-উপাচার্য বলেন, কোনো নেতিবাচক উচ্চারণ, কোনো দুর্নীতির শব্দ বর্তমান প্রক্টর, সাবেক প্রক্টরসহ প্রশাসনের কারো সাথেই যায় না। এটা যৌক্তিক হতে পারে না। এটা মানার মতো না। এটি যারা বলছে, যারা লিখেছে তারা উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে লিখেছে যা আমরা প্রত্যাখ্যান করি।
উল্লেখ্য যে, গতকাল শুক্রবার বঙ্গবন্ধু পরিষদের অপর একটি অংশ, নির্বাচিত বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতৃবৃন্দ এবং বর্তমান প্রশাসনকে জড়িয়ে একটি অভিযোগ পত্র কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদে প্রেরণ করেন।
ঐ পত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচিত বঙ্গবন্ধু পরিষদ আপাদমস্তক অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও সেচ্ছাচারিতায় নিমজ্জিত বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুন উর রশিদ আসকারীকে রক্ষা করার এজেন্ডা নিয়ে তারা মাঠে নেমেছে। তবে এ পত্র সম্পর্কে জানেন না বলে জানিয়েছেন ঐ অংশের সভাপতি অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান।
ঐ অংশের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আরফিন জানান, সভাপতি অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমানের অনুপস্থিতিতে তার পক্ষে অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আরফিনের অনুপস্থিতিতে তার পক্ষে অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল হক স্বাক্ষর করেছেন।
এদিকে কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদে প্রেরিত ঐসকল অভিযোগ প্রমাণ করা এবং প্রমাণ করতে না পারলে যারা অভিযোগ করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপাচার্যের নিকট দাবি জানিয়ে এ সময় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সদস্য অধ্যাপক ড. তপন কুমার জোদ্দার বলেন, অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আরফিন কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে কালো তালিকাভুক্ত হয়েছেন, বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল হক প্রভোস্ট থাকাকালীন দুর্নীতি করেছেন যা তদন্ত সাপেক্ষে প্রমাণিত, টিএসসিসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান শিক্ষক নিয়োগ, অনিয়ম, হলের প্রভোস্ট থাকাকালীন আর্থিক অনিয়ম ও টিএসসিসি পরিচালনায় ব্যর্থ এসব প্রমাণিত দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আজকের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে বঙ্গবন্ধু পরিষদ কর্মসূচি দিবে যে, কেন বর্তমান প্রশাসন দুর্নীতিবাজদের প্রশ্রয় দিচ্ছে।
এসময় অনেকের মধ্যে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. কাজী আখতার হোসেন, প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. রেজওয়ানুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মনসহ বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রায় দুই শতাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
এসময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারী বলেন, এ জাতীয় অভিযোগ আমি উপাচার্য হওয়ার আগে থেকেই শুনছি। আমার বিরুদ্ধে আমার সব চাইতে যে বড় শত্রু সে বলতে পারবে না যে আমি প্রতিক্রিয়াশীল। সেরকম অভিযোগও দেয়া হয়েছিল আমি ভিসি হওয়ার আগে এবং সে গুলো নস্যাৎ হয়েছে। সমস্ত নিন্দুকের মুখে ছাই দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে এ দায়িত্ব দিয়েছেন। সে জন্য তার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।
তিনি আরো বলেন, আমার ক্ষমতার প্রতি কোনো মোহ নেই। আমার বিরুদ্ধে যেকোনো একটি অভিযোগ যদি অর্ধেকও প্রমাণ করা যায় এখান থেকে সাদা কাগজে রেজিগনেশন সিগনেচার করে আমি চলে যাবো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দোহাই দিয়ে বলি, কোনো যদি অভিযোগ থাকে নিয়ে এসে প্রমাণ করে আমরা ব্যবস্থা নেবো কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো কাঁদা ছোড়াছুড়ি নৈরাজ্য কর পরিস্থিতি সৃষ্টি করবেন না।
বার্তাবাজার/এমকে