রাকসু নিয়ে বিপরীতমুখী অবস্থানে রাবি ভিসি ও ছাত্রসংগঠনগুলো

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান ও ক্যাম্পাসের ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে বিপরীতমুখী অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে।

শনিবার দুুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠন রাবি ফ্রেন্ডস অ্যাসোসিয়েশনের (রাফা) আয়োজনে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান বলেন, রাকসু নির্বাচন অনেকেই চায় এবং আমিও চাই। তবে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন মতাদর্শের ১৫-২০টি সংগঠন রয়েছে। নির্বাচন হয়ে গেলে তাদের মধ্যে একজন ভিপি হবে। এখন প্রত্যেক সংগঠনে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছে তারা বাহাদুরি দেখায়। ফলে তারা রাকসু নির্বাচন চায় না। আগের নেতৃত্ব আর এখনকার নেতৃত্বের মধ্যে গুণগত মানের অনেক পার্থক্য আছে। নেতা হওয়া সহজ কাজ নয়’

উপাচার্য আরও বলেন, রাকসু নির্বাচনে কারা নেতৃত্ব দেবে? সেরকম নেতৃত্ব আদৌ রয়েছে কি? আমি বহুবার বলেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ে রাকসু নির্বাচন দিতে চাই। কিন্তু একটি ছাত্র সংগঠনও রাজি হয়নি।

তবে উপাচার্যের বক্তব্যের সাথে ভিন্ন মত পোষণ করেন ক্যাম্পাসের সবচেয়ে বেশি সক্রিয় রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু৷ তিনি বলেন ছাত্রলীগ সবসময়ই রাকসু নির্বাচন চায়৷ আমি এবং আমার সভাপতি দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম যে স্মারকলিপি দিই সেখানে প্রথম দাবিই ছিলো রাকসু নির্বাচন। শুধু একবার নয়, কয়েকবার আমরা রাকসু নির্বাচনের দাবি জানিয়েছি। তারপরও ঠিক কি কারণে এ কথাগুলো আসতেছে তা জানি না।

ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে এবং কোনো সংগঠনের যদি প্রস্তুতি না থাকে তাহলে তারা করবে না নির্বাচন। আমরা ছাত্রলীগ রাকসু নির্বাচনের জন্য সবসময় প্রস্তুত আছি।

উপাচার্যের বক্তব্যকে অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল নেতা এস এম মাহমুদুল হাসান মিঠু বলেন, উনার মতো দায়িত্বশীল পদে থেকে এধরণের বক্তব্য সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণভোমরা হলো ছাত্ররা। সেখানে ছাত্রদের প্রতিনিধি নির্বাচনের প্রক্রিয়া হলো রাকসু। তাই শুধু ছাত্রদল না প্রতিটা ছাত্রসংগঠনের প্রাণের দাবি রাকসু নির্বাচন।

দীর্ঘদিন থেকে রাকসু নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে রাকসু আন্দোলন মঞ্চ। এই আন্দোলন মঞ্চের আহ্বায়ক আবদুল মজিদ অন্তর মনে করেন রাকসু নির্বাচন দিতে প্রশাসনের সদিচ্ছা অভাব রয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচন দিতে প্রশাসনের যে সদিচ্ছা থাকা দরকার সেটি প্রশাসনের নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্বাচন দিতে ভয় পাচ্ছে। তারা হয়তো মনে রাকসু নির্বাচন দিলে সবকিছু জবাবদিহিতার আওতায় চলে আসবে। বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী চালাতে হবে বা একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসবে। যেসকল অনিয়ম চলছে তা চালাতে পারবে না। মূলত এসব কাজ বন্ধ হয়ে যাবে এই আশঙ্কায় প্রশাসন নির্বাচন দিচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটা সাধারণ শিক্ষার্থীই রাকসু নির্বাচন চায়। নির্বাচন না দিলে মার্চের মাঝামাঝিতে কঠোর আন্দোলনের যাওয়ার কথাও বলেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি শাকিলা খাতুন মনে করেন, নির্বাচন দিতে না পারার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রসংগঠনগুলোর উপর দায় চাপাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, বাম ছাত্র সংগঠনগুলো তো অবশ্যই এমনকি আমি যতদূর জানি ছাত্রলীগ, ছাত্রদল সকল সংগঠনই রাকসু নির্বাচন চায়।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর