‘দুই মেয়ের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন মা, পরে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা’

মায়ের হাতে খুন হয়েছে দুই শিশু। ঘটনাটি ঘটে রাজধানীর দক্ষিণ গোড়ানে। দুই সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেন মা আখতারুন্নেসা পপি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।

ঢামেকের বার্ন ইউনিটের অবজারভেশন কক্ষে থাকা ওই মা নিজ শিশুদের হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, গতকাল (শুক্রবার) রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে আমার দুই সন্তান শিশু জান্নাতুল ও মেহজাবিনকে হত্যার পরিকল্পনা করি। এবং পরিকল্পনামতো সকালে প্রথমে আগুনে পুড়িয়ে ও পরে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করি।

মা হয়ে কেনো এমন কাজ করলেন জানতে চাইলে পপি বলেন, সন্তানদের লেখাপড়ার খরছ চালাতে পারছিলাম না। সংসার চালানো যাচ্ছিল না। স্বামী সংসার খরচ দিতো মাত্র ১ হাজার ১০০ টাকা। ওই টাকায় কিছুই করা যাচ্ছিল না। এ নিয়ে হতাশা, বেঁচে থাকার নিরাশা থেকেই দুই সন্তানকে খুন ও নিজে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেন, স্বামীর সঙ্গে বিরোধের জেরে হতাশ হয়ে দুই শিশুকে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন পপি। নিহত দুই শিশুর স্বজন ও প্রতিবেশীদের অভিযোগ, পপির স্বামীর কারনে সংসারে অশান্তি লেগেই থাকতো। তার স্বামী বিপ্লব পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ায় এবং যৌতুকের টাকা চাওয়ায় এমনটা হয়। সবশেষ শুক্রবার রাতেও বিপ্লব ১০ লাখ টাকা না দেয়া হলে আবারো বিয়ে ও সন্তানদের কেড়ে নেয়ার হুমকি দেন স্ত্রীকে।

আর এ ঘটনার জের ধরে নিজের দুই সন্তানকে গলা কেটে হত্যার পর নিজের শরীরেও আগুন ধরিয়ে দেন মা আখতারুন্নেসা পপি। এদিকে ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ। দুই শিশুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদিকে ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন শিশুদের বাবা।

বার্তাবাজার/কেএ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর