বাস্তবে জীবিত থাকলেও সরকারি খাতায় মৃত

বাস্তবে জীবিত থাকলেও পাঁচ বছর ধরে সরকারি খাতায় কৃষক আব্দুস সামাদ মৃত। দুটি নির্বাচনে তার পক্ষে ভোট দেয়া সম্ভব হয়নি। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা দ্রুত সংশোধনের আশ্বাস দিলেও এখনও মৃতই আব্দুস সামাদ। বিভিন্ন দফতরে লিখিত আবেদন ও জনপ্রতিনিধিদের জানানোর পরেও কোনো লাভ হয়নি।

শুক্রবার বিকালে শত শত মানুষ স্মার্টকার্ড পেলেও দীর্ঘক্ষন লাইনে অপেক্ষা করে ফিরে যেতে হয় আব্দুস সামাদকে।

কৃষক আব্দুস সামাদ নাটোরের বাগাতিপাড়া পৌরসভার লক্ষণহাটী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র পাই ২০০৮ সালে। ২০১৪ সালে উপজেলা নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে জানতে পারি, সরকারি তালিকায় আমাকে মৃত দেখাচ্ছে। পরের নির্বাচনেও একই কারণে ভোট দিতে পারিনি। এ ব্যাপারে স্থানীয় কাউন্সিলর, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং উপজেলা চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে। সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় আবেদন করেছি।’

আব্দুস সামাদের ছেলে ফজলুর রহমান জানান, ‘সচেতন নাগরিক হিসেবে গত দুটি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি বাবা। একইভাবে এলাকার বিভিন্ন মানুষ স্মার্টকার্ড পেলেও তিনি বঞ্চিত। সরকারি খাতায় মৃত হিসাবে নাম থাকায় নানা অসুবিধা হচ্ছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রতিপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, ‘প্রায় ৩ মাস আগে আব্দুস সামাদের লিখিত আবেদন পাওয়ার পর সেটি ঢাকায় পাঠিয়েছি। ঢাকা থেকে সংশোধন আসলে সামাদকে নিশ্চিত করতে পারবো।’

বাগাতিপাড়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র ইউসুফ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘আব্দুস সামাদ আমার ওয়ার্ডের ভোটার। প্রায় ১ বছর আগে বিষয়টি জানার পর বহুভাবে চেষ্টা করেছি। কিন্তু আজও বিষয়টির সমাধান হয়নি।’

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর