পাপিয়াকাণ্ডে আলোচিত রাজধানীর ওয়েষ্টিন হোটেলে তরুনীকে ধর্ষনের অভিযোগে এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক আমজাদ হোসেনের (৩৭) বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে। দেশজুড়ে পাপিয়াকাণ্ড ভাইরাল হলেও ধর্ষনের ঘটনাটি আড়ালেই ছিল এতদিন।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি গুলশান থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়।
জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ওয়েষ্টিনে এই ধর্ষনের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আমজাদ হোসেন হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে ভুক্তভোগী তরুণীকে হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্ত আমজাদ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে- ‘তিনি তদন্তাধীন বিষয়ে কথা বলতে চান না বলে জানান।
গুলশান থানার পরিদর্শক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মামলাটি বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায় , গত ২৫ ডিসেম্বর হোটেল ওয়েস্টিনে এক অনুষ্ঠানে আমজাদের সঙ্গে ওই তরুণীর পরিচয়। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে ফোনে ও বিভিন্ন অ্যাপে নিয়মিত বার্তা আদানপ্রদান শুরু হয়। এরপর ৩ জানুয়ারি বিকালে আমজাদ ওই তরুণীকে ওয়েস্টিনের ১৯১৬ নম্বর কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে ‘শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য জোর’ করেন। তবে ওই তরুণীর আপত্তিতে সেদিন তা পারেননি।
ভুক্তভোগী তরুণী জানায়, ১৬ জানুয়ারি রাত ১০টা ২০ মিনিটে তার ধানমণ্ডির বাসার কাছে গিয়ে আমজাদ নিচে নামতে বলেন। তিনি প্রথমে রাজি না হলেও পরে আমজাদের পীড়াপীড়িতে নেমে আসেন। আমজাদ তখন তার গাড়িতে করে তাকে ওয়েস্টিন হোটেলে নিয়ে যান। রাত সোয়া ১২টার দিকে তাকে নিয়ে আমজাদ তার বন্ধু নাহিয়ানের নামে ভাড়া করা ১০১০ নম্বর কক্ষে যান।
“কক্ষে নেওয়ার পর আমাকে এক পর্যায়ে কুপ্রস্তাব দেয়। তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখায়, রাত পৌনে ১টার দিকে আমাকে ধর্ষণ করে। আমি প্রতিবাদ করেও তার হাত থেকে রেহাই পাইনি।”
মামলার এজাহারে বলা হয়, সেই রাতের পর আমজাদ বিয়ের বিষয়ে ওই তরুণীকে ‘ঘোরাতে থাকেন’। এক পর্যায়ে বিয়ে করবেন না বলে জানিয়ে দেন এবং বিভিন্ন ধরনের ‘হুমকি’ দেন।
জানতে চাইলে অভিযুক্ত এফবিসিসিআই পরিচালক আমজাদ জানান, তিনি ওই তরুণীকে চেনেন। কিভাবে চেনেন এমন প্রশ্ন এড়িয়ে যান।
১৬ জানুয়ারি ওয়েষ্টিনের হোটেলে কি ঘটেছিল জানতে চাইলে আমজাদ তাৎক্ষনিক উত্তর দিতে রাজি হননি।
মামলার অগ্রগতি জানতে চাইলে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার (ঢাকা মহানগর দক্ষিণ) মো. শাহাদাত হোসেন, “মামলার তদন্ত চলছে। এখনো মেডিকেল রিপোর্ট আমরা হাতে পাইনি।”
ওয়েস্টিন হোটেলের মার্কেটিং কমিউনিকেশনস বিভাগের সহকারী পরিচালক সাদমান সালাহউদ্দিনকে ফোন করে ধর্ষণের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলতেই তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
এ নিয়ে গুলশান থানায় মামলা হয়েছে জানানোর পর তিনি বলেন, “আমি জানি না। আমি ছুটিতে… ছুটিতে…।”
হোটেলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কে কথা বলতে পারবেন তা জানতে চাইলে অফিসে ফোন করতে বলে লাইন কেটে দেন ওয়েষ্টিনের এই সহকারী পরিচালক।
পরে টেলিফোনে ওয়েস্টিনের ফ্রন্ট অফিস ম্যানেজার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন।
এক পর্যায়ে তিনি হোটেলের সহকারী পরিচাল সাদমান সালাহউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়ে মনিরুজ্জামান বলেন, “কথা বলার জন্য উই আর নট দ্য রাইট পার্সন।”
।।বিডিনিউজ২৪।।
বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস