বাঙালি জাতির নানা সংকটকালে পথ দেখিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ : ড. আতিয়ার রহমান

জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত পরিষদের ৩৯তম সম্মেলনের পর্দা উঠেছে সিরাজগঞ্জে। শুক্রবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যায় তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসংগ্রামী, সংস্কৃতিজন কামাল লোহানী। মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালন ও ‘ভেঙেছ দুয়ার, এসেছ জ্যোতির্ময়, তোমারি হউক জয়’ বোধনসংগীতের মধ্য দিয়ে সিরাজগঞ্জ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে এ সম্মেলন শুরু হয়েছে।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের নির্বাহী পরিচালক বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিয়ার রহমান ও কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বুলবুল ইসলাম। সম্মেলনের আহ্বায়ক সিরাজগঞ্জ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ টিএম সোহেলের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী পর্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন পরিষদের জেলা শাখার সভাপতি নুর এ আলম হীরা। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান ও বিশেষ অতিথিদের উত্তরীয় পরিয়ে দেন সম্মিলন পরিষদের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ড. জান্নাত আরা তালুকদার হেনরীসহ কয়েকজন।

বৈরী ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে এ সম্মেলন বিকেল ৫টার পরিবর্তে সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হয়। এবারের আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন সারাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা সাতশ’র বেশি শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও সংগঠক। সম্মেলনের তিন দিনই সান্ধ্য অধিবেশনে থাকছে গুণীজনের সুবচন রবিরশ্মি, আবৃত্তি, পাঠ, নৃত্য ও সংগীত।

উদ্বোধনের সময় কামাল লোহানী তার আশীর্বাণী বক্তব্যে বলেন, ‘এখন কী অপূর্বই না প্রকৃতি। অথচ কিছুক্ষণ আগেও বেশ বৈরী ও প্রতিকূলেই ছিল প্রকৃতি। আমরা ভেবেছিলাম হয়তো এরকমই থাকবে। তার কাছে আমরা হয়তো আজ পরাজিতই হবো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা পরাজিত হইনি। যেমন পরাজিত হইনি ১৯৭১-এ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, বাধা দিলে বাধবে লড়াই। তার কথা অনুযায়ী আমরা কোনো বাধা মানিনি। বায়ান্ন থেকে একাত্তর পর্যন্ত সব বাধা অতিক্রম স্বাধীনতা অর্জন করেছি।’

কামাল লোহানী বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ আমাদের আশীর্বাণী দিয়েছিলেন, বাধা দিলেই বাধা অতিক্রম করতে হবে।

কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পরও মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে আমরা জয়ী হতে পারছি না। ভাষা আন্দোলন, সামরিক শাসন ও স্বাধীনতা যুদ্ধে জয়ী হতে পারলেও মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে কেন জয়ী হতে পারছি না? তারা এখনও মাথাচাড়া দিয়ে উঠবার অপচেষ্টা করছে।’ তিনি বলেন, জনগণকে বিচ্ছিন্ন রেখে কোনো আন্দোলনে জয়ী হওয়া সম্ভব নয়। সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রবল শক্তি হিসেবে রবি ঠাকুরকে পাব। যেমন পেয়েছিলাম ‘৫২ ও ‘৭১-এ।

বিশেষ অতিথি ড. আতিয়ার রহমান বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজেই ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একনিষ্ঠ গুণমুগ্ধ। আমাদের বড়ই সৌভাগ্য, মুজিব জন্মশতবর্ষের প্রাক্কালে এ ধরনের একটি অনুষ্ঠান করতে পারছি। দুই শতকের সাক্ষী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমার সোনার বাংলা’ গানের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। এ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে দুই বাঙালি বীর সন্তানকে গভীরভাবে স্মরণ করা হবে। তিনি বলেন, বাঙালি জাতির নানা সংকটকালে পথ দেখিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ। এ সম্মেলনের মাধ্যমে তার সংগীত, অমর সাহিত্যকর্ম ও সংস্কৃতির বহুমাত্রিক দিক সবার সামনে তুলে ধরা হবে।

বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর