জয় দিয়ে মাশরাফির বিদায়

বৃষ্টি আইনে ৩৪২ রানের জবাবে সবক’টি উইকেট হারিয়ে জিম্বাবুয়ে থামে ২১৮ রানে। আর তাতেই বাংলাদেশ দল ১২৩ রানের জয় তুলে নেয়।। যার ফলে অধিনায়ক মাশরাফির শেষ ম্যাচটি স্মরণীয় হয় থাকলো।

এর আগে জিম্বাবুয়ে ইনিংসের প্রথম ওভারেই ৪ রান করে মাশরাফির বলে আউট হয়ে মাঠ ছাড়েন ম্যাচকামুনহুকামুয়ে। এরপর রোডেশিয়ানদের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন সাইফউদ্দিন। ফেরেন অভিজ্ঞ ব্রেন্ডন টেইলর (১৪)। দলীয় ২৮ রানেই ফেরেন দুই টপ অর্ডার।

এরপর অধিনায়ক শন উইলিয়ামসকে নিয়ে বিপর্যয় সামলান চাকাবা। তবে ওয়ানডেতে অভিষিক্ত আফিফের প্রথম শিকার হয়ে ফিরতে হয় উইলিয়ামসকে (৩০)। এরপর মাধেভেরকে সঙ্গে নিয়ে ৩৯ রানের জুটি গড়েন চাকাবা।

কিন্তু দলীয় ১১৩ রানে তাইজুলের বলে বোল্ড হয়ে চাকাবা (৩৪) ফিরলে ভাঙে এই জুটি। পঞ্চম উইকেট জুটিতে সিকান্দার রাজার সঙ্গে ৩৭ রানের জুটি গড়েন মাধেভের। সাইফউদ্দিনের দ্বিতীয় শিকার হয়ে মাধেভের (৪২) যখন ফিরলেন তখন সফরকারীদের অপেক্ষা কেবল হারের। রোডেশিয়ানদের ষষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটে অদ্ভুতুড়ে এক রান আউটে। রিচমন্ড মুতুম্বামি ফেরেন কোনো রান যোগ না করেই।

টিনোনেডা মুতুম্বোদজি (৭), ত্রিপানো (১৫) আর শুমা (০) ফিরলে বাংলাদেশ সহজ জয় তুলে নেয়। টাইগারদের হয়ে সাইফউদ্দিন ৪টি, তাইজুল ২টি এবং একটি করে উইকেট নেন মুস্তাফিজুর, আফিফ এবং মাশরাফিন বিন মুর্ত্তজা।

এর আগে সিলেটে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে তামিম-লিটনের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে কার্টেল ওভারে (৪৩ ওভার) নেমে আসা ম্যাচে ৩ উইকেটে ৩২২ রানের পাহাড় দাঁড় করিয়েছে মাশরাফির দল।

মাশরাফি বিন মতুর্জার অধিনায়ক হিসেবে এটি শেষ ম্যাচ। তাইতো এই ম্যাচটির গুরুত্ব আলাদা টাইগার ক্রিকেটভক্তদের কাছে।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দারুন শুরু করেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল এবং লিটন দাস। দু’জনই আগের দুই ম্যাচে দুটি সেঞ্চুরির ইনিংস খেলেন। প্রথম ম্যাচে লিটন অপরাজিত ১২৬ এবং দ্বিতীয় ম্যাচে তামিম খেলেন ১৫৮ রানের ইনিংস।

দেখেশুনে শুরু করার পর মাত্র ৫২ বলে ৫০ রানের জুটি গড়ে ফেলেন তামিম-লিটন। ৫০ থেকে ১০০ করতে বেশি সময় নেননি এই দুই ব্যাটসম্যান। ১১০ বলে ছুঁয়ে ফেলেন ১০০ রানের জুটি। পরে ৫০ পার করতে কিছুটা সময় নিয়েছেন তারা। ১৭৮ বলে দেড়শ রানের পার্টনারশীপ করেন এই জুটি । তারা ১৮২ রানে পৌঁছার পর নামে বৃষ্টি। তখন ৩৩.২ ওভার খেলা হয়েছে।

বৃষ্টির পর ৭ ওভার কমিয়ে আনা হয়। রীতিমত মারমুখী হয়ে ওঠেন তামিম-লিটন। চার-ছক্কায় পুরো মাঠ মাতিয়ে রাখেন এই দুই ব্যাটসম্যান। এরই ফাঁকে যে কোনো উইকেটে বাংলাদেশের সেরা জুটির রেকর্ডটিও নিজেদের করে নেন এই যুগল।

২০১৭ সালে কার্ডিফে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পঞ্চম উইকেটে সাকিব-রিয়াদের ২২৪ রানের জুটি ছিল এতদিন ওয়ানডে ক্রিকেটে যে কোনো উইকেটে বাংলাদেশের সেরা জুটি।

লিটনের পর সেঞ্চুরি তুলে নেন তামিমও। ১৩৫ বলে ১৫০ রানের ক্লাবে নিজের নাম লেখান ড্যাসিং এই ব্যাটসম্যান। লিটনের হার না মানা ইনিংসটা থেমেছে ১৭৬ রানে। ১৪৩ বলে ১৬টি চার এবং ৮টি ছক্কা হাঁকান এই ডানহাতি, গড়েন দেশের ইতিহাসের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ডও।

এরপর মাহমুদউল্লাহ ৩, আফিফ হোসেন ধ্রব ৭ রানে ফিরে যান । তবে তামিম শেষ পর্যন্ত অপরাজিতই ছিলেন। ১০৯ বলে ৭ চার আর ৬ ছক্কায় দেশসেরা এই ওপেনার খেলেন ১২৮ রানের ইনিংস। এটি তার টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি।

বার্তাবাজার/কেএ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর