২ স্বামীর সাথেই সংসার করেছেন যুব মহিলা লীগের এই নেত্রী

গাজীপুরের টঙ্গীর বহুল আলোচিত যুব মহিলা লীগ নেত্রী নাসিমা আক্তার ওরফে নাসরিন একই সঙ্গে দুই স্বামীর সাথে দুই সংসার করতেন। বুধবার (৪ মার্চ) রাতে দ্বিতীয় স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দেয়ার পর জানা যায় এখনও কারো সঙ্গে তার ছাড়াছাড়ি হয়নি!

তবে মামলার অভিযোগে তিনি দ্বিতীয় স্বামীকে তার প্রেমিক বলে দাবি করেন একই সাথে জানান ১০ বছরের সম্পর্কে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বহুবার ধর্ষণ করা হয়েছে।

কিন্তু সত্যতা প্রকাশ হয়ে যাত স্থানীয় এক সাংবাদিকের ফেসবুক পেজে করা একটি পোস্টে। সেখানে ওই সাংবাদিক নাসিমা ওরফে নাসরিন যে ব্যক্তির নামে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন তার সাথেই বিয়ের হলফনামার ছবি আপলোড করে দিয়েছেন। বিষয়টা এখন ওই এলাকার মানুষদের মুখে মুখে।

গত বুধবার (৪ মার্চ) দ্বিতীয় স্বামীসহ আরও ৫ জনের নাম উল্লেখ করে টঙ্গী পূর্ব থানায় ধর্ষণের মামলা করে আলোচনায় আসেন যু মহিলা লীগের এই নেত্রী। মামলা (নং-১১) তে প্রধান আসামী হিসাবে নাম দেন স্থানীয় ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি পদের প্রার্থী আলী আজগরের।

মামলার বাদী নাসরিন ওয়ার্ড যুব মহিলা লীগের সভাপতি পদে স্থানীয় একজন যুবলীগ নেতার স্ত্রীর সঙ্গে লড়ছেন।

ফেসবুকে শামিমার এইসব অপকর্মের খবর ভাইরাল হয়ে গেলে তার অপরাধ জগতের নানা তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠে আসে।

স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে ম্যাসেঞ্জারে পাঠাতে থাকেন নাসিমার গোপন অডিও, ভিডিও ও স্থিরচিত্র। নাসিমা একটি রাজকীয় খাটে বসে ফেনসিডিল খেতে দেখা গেছে একটি ছবিতে। অন্য আরেকটায় দেখা গিয়েছে কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীচগের এক নেত্রীর সঙ্গে সেলফি তুলতে।

সাংবাদিকের দেয়া হলফনামায় দেখা গেছে, নাসিমা ও তার পরকীয়া প্রেমিক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আলী আসগর ২০১৬ সালের ২৪ জুন নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তাদের বিবাহের হলফনামা সম্পাদন করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাসিমার প্রথম স্বামী জসিম উদ্দিন সুমন এসব মেনে নিয়েই নাসিমার সঙ্গে দ্বৈতভাবে সংসার করতেন। নাসিমা-সুমন দম্পতি সংসারে প্রায় চৌদ্দ বছর বয়সের একটি ছেলে সন্তানও রয়েছে। নাসিমা ও তার প্রথম স্বামী সুমনের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। ভাঙ্গারি দোকানে একজন টোকাইকে পিটিয়ে হত্যার পর দোকানের ভেতর লাশ ঝুলিয়ে রাখার অপরাধে ২০১৬ সালে তাদের বিরুদ্ধে সাবেক টঙ্গী থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়।

এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য নাসিমা ও তার দুই স্বামীর সঙ্গে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদেরকে পাওয়া যায়নি।্নাসিমা ও তার প্রথম স্বামি সুমন ফোন রিসিভ করেনি আর দ্বিতীয় স্বামী আজগরের মোবাইল বন্ধ পাওয়া গেছে।

টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি (তদন্ত) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, দ্বিতীয় স্বামী আলী আজগরসহ ৫ জনের নামে নাসিমা থানায় ধর্ষণ মামলা দিয়েছেন। ওই মামলায় আজগরের সহযোগী দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধান আসামী আজগর পলাতক রয়েছেন।

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর