এলাকার বড় ভাইকে সালাম না দিয়ে উল্টো তার সামনে ধুমপান। বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি কথিত বড় ভাই। ফলাফল ছুরিকাঘাতে হত্যা।
সিনিয়র-জুনিয়রের দ্বন্ধের জেরে রাজধানীর মহাখালীতে ইংরেজি মাধ্যমে পড়ুয়া তরুণ প্রাণ নিলো ফ্লেক্সিলোড ব্যবসায়ীর। পুলিশ বলছে, সামাজিক অবক্ষয় আর পারিবারিক কলহের কারণে ঘটছে এরকম ঘটনা।
রাত ৯টায় এলাকার টং দোকানে চা খেতে যান এক যুবক। সেখানে আসেন একই এলাকার আরেক যুবক। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন। চা খেতে আসা তরুণ সিনিয়রকে সালাম দেননি। উল্টো তার সামনেই ধুমপান। বিষয়টিকে মেনে নিতে পারেননি কথিত বড় ভাই। ক্ষুব্ধ হয়ে ছুরিকাঘাত। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে মৃত্যু হয় তার।
ঘটনাটি ২৮শে ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) রাজধানীর মহাখালীর আমতলিতে। পরে জানা যায় হত্যার শিকার তরুণের নাম রহমতুল্লাহ শিপু। হামলাকারীর নাম অনন্ত। ঘটনায় শিপুর বাবা বাদী হয়ে অনন্তকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। গোয়েন্দা পুলিশ তিনদিন পর অনন্তকে চাঁদপুরের এক আত্মীয়ের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে।

‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী অনন্ত। বাবা মৃত্যুতে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। জড়িয়ে পড়েন মাদকে। তার অভিযোগ বয়সে ছোট শিপু তাকে সম্মান করতো না। প্রায়ই তার সামনে ধুমপান করতো। আগে তাকে নিষেধ করেও কাজ হয়নি।
অনন্ত বলেন, ‘বেঞ্চের সামনে কিছু পাথর আছে বসার জন্য, আমি ওখানে বসেছিলাম। শিপুরা পাঁচজন একটা গ্রুপ আসলো এপাশ থেকে। ওর চার-পাঁচটা বন্ধু আছে ওরাসহ আসে ওপাশ থেকে। ১০-২০টা সিগারেটের দোকান ক্রস করে আসলো। এসে কি করলো, আমার সামনে যে সিগারেটের দোকান ওখানে দাঁড়ালো। তারা সিগারেট কিনে ধরালো, টানতে টানতে বেঞ্চের সাইডে ফুটপাথে এসে বসে। জিনিসটা আমার সেদিন খুবই মাইন্ডে লাগে। পরে, এক কধা দুই কথায় লাগালাগি হয়ে আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। পরে, ছুরি দিয়ে আমি স্ট্যাক করেছি।’
মহাখালীর হাজারিপাড়া এলাকায় ফ্লেক্সিলোডের ব্যবসা করতো শিপু। বাবা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। পরিবার বলছে গ্রুপিং বা আড্ডায় জড়িত ছিলো না সে। শিপুর মা বলেন, ‘ও ভাবসে গরীবের পোলাপাইন, মাইরা ফেলে যাই কিছুই হবেনা। আমার আর কোন ছেলে নাই। আর একটাই মেয়ে, কুষ্টিয়ায় থাকে বিয়ে দিয়েছি। যত দ্রুত হোক আমি ফাঁসি চাই ওর। আর কোনও মায়ের বুক যেন খালি না হয়।’
শিপুর বোন জানান, ‘কোথা থেকে যে কি হয়ে গেলো আমরা কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। আমার মত যেন আর কেউ ভাইহারা না হয়।’
পুলিশ বলছে, গ্যাং কালচারের বলি শিপু। এলাকায় সিনিয়র জুনিয়র দ্বন্ধের জেরেই এই খুনের ঘটনা। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা উত্তর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, ‘পরিবারের লোকজন আমরা যদি শুধু অর্থবিত্ত অথবা অন্য কিছু অর্জনের জন্য ছুটতে থাকে। সন্তানকে কোয়ালিটি টাইম না দেয়। জীবনের সঙ্গে মিশে গিয়ে যদি তাদের ভালোমন্দ তাদের না বলতে যায় তাদের, তাহলে কেউ দিন শেষে এ লেভেল-ও লেভেল পাশ করে বিজ্ঞানী হবেনা, ভালো কিছুই হবেনা। বরং অন্য নানা সংস্পর্শে এসে তারা খুনি হবে রাষ্ট্রের জন্য। পরিবারের জন্য তারা বোঝা হয়ে যাবে।’
পারিবারিক কলহ আর সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে সন্তানকে নৈতিক শিক্ষা দেয়ার পরামর্শ পুলিশের।
সূত্র: ডিবিসি নিউজ
বার্তাবাজার/কে.জে.পি