জাবির মঞ্চে সৈয়দ শামসুল হকের ‘ইর্ষা’

মানব মানবীর হৃদয় ঘটিত সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে রচিত সৈয়দ শামসুল হকের কাব্যনাটক ঈর্ষা । ‘প্রেমিকের হৃদয় যদি পোড়ে তা একমাত্র ঈর্ষার আগুনে পোড়ে, ঈর্ষায় যে পোড়েনি, প্রেম সে হৃদয়ে ধরেনি, ঈর্ষা এক ঠান্ডা নীল আগুন’।

জীবনের হাসি-কান্নার মাঝেই ভাঙ্গাগড়ার স্বপ্ন। ভালোবাসার মানুষটিকে কাছে পাওয়ার ইচ্ছায় ঈর্ষা মানসিকতার প্রকাশ ঘটে। এটিই কথাসাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হকের লেখা ‘ঈর্ষা’ নাটকের মূল উপজীব্য। বৃহস্প্রতিবার (৫ মার্চ) সন্ধ্যায় জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারের ছয় দিনব্যাপী নাট্যপার্বণের ৫ম দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিম আল দীন মুক্তমে ‘ প্রাঙ্গনে মোর’ নাট্যদলকর্মীর পরিবেশনায়, সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক রচিত ‘ইর্ষা’ নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন অনন্ত হীরা।

নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন নূনা আফরোজ, রামিজ রাজু ও অনন্ত হিরা। নাটকে শিল্পী তার মনে জলরং দিয়ে প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমির মতো মনের ক্যানভাসে এঁকেছেন প্রিয়তমার ছবি। সেই ক্যানভাসে প্রিয়তমার শারীরিক সম্পর্ক বা যৌনতাকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

নাটকটি জীবন থেকে জীবনে বিস্তৃত আর দ্বন্দ্ব সংঘাতে মুখর । সেই সঙ্গে আছে শিল্পের সঙ্গে শিল্পের দ্বন্দ্ব শিল্পীর সঙ্গে শিল্পীর দ্বন্দ্বও। আছে মানুষের সঙ্গে মানুষের এবং শিল্পীর সঙ্গে শিল্পীর প্রেম, ভালবাসা; আছে মানব জীবনের আরেক অপরিহার্য এবং অত্যন্ত গোপন বিষয় শারীরিক সম্পর্ক বা যৌনতার কথা।

‘রাষ্ট্রের বিপর্যয়ে পথে নামা যায়, বক্তৃতা করা যায়, করা যায় মিটিং মিছিল, গেরিলাও হওয়া যায়। কিন্তু বিপর্যয় হয় যদি ব্যক্তিগত, যদি নষ্ট হয়ে যায় নিজেরই ফসলের মাঠ, কি তবে কর্তব্য হয়? মিছিল কি নামানো যায়? স্লোগান কি দেয়া যায়? গড়ে তোলা যায় গোপন বাহিনী শুধু নিজেকে নিয়ে?’

নাটকে ঈর্ষার মানবিক রূপ ফুটে উঠেছে। মানুষ নিজের ভেতরে একাধিক ব্যক্তিত্বকে অনুভব করতে পারে। নিজের প্রতি নিজেই ঈর্ষান্বিত হতে পারে। নিজেই নিজেকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবে। প্রৌঢ়, যুবতী ও যুবক -এই তিনটি চরিত্রের একের পর এক, অর্থাৎ প্রৌঢ়ের পর যুবতী, তারপর যুবক এবং আবার প্রৌঢ়-যুবক-যুবতী এবং আবারও প্রৌঢ়ের সংলাপে নাটকটি শেষ হয়।

যুবতীর রয়েছে স্বামী অথচ প্রৌঢ় আর্টিস্ট তাঁর নগ্ন ছবি পছন্দ করেন। তাঁর আঁকা নগ্নিকা সিরিজের ছবিগুলো প্রদর্শনীতে দিতে চান তিনি। শরীরের অধিকার থেকে বি ত আশঙ্কায় তাড়িত হয়ে তিনি বলেছেন :‘’তোমার নগ্নতার ওপর দিয়ে বহে যাচ্ছে যে নিঃশ্বাস সে আমার এবং আমার? তুমি তুমি, রক্ত মাংসে যে তুমি, আমি সেই তোমাকেই চাই। আমার ক্যানভাস হোক অমর, তোমার নদীতে আমি মরতে চাই।’

১ ঘণ্টা ৫০ মিনিটের এই নাটকের তিনটি দৃশ্যে রয়েছে মাত্র ৭টি সংলাপ। নাটকটির সবচেয়ে বড় সংলাপের ব্যাপ্তি ৩৬ মিনিট এবং সবচেয়ে ছোট সংলাপটি ১৬ মিনিট ব্যাপ্তির। ‘কালের করাঘাতে জেগে উঠুক দ্রোহের লাল’ স্লোগানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে নাট্যপার্বণ ২০২০।

বার্তাবাজার/কেএ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর