জাবিতে গাছ কেটে ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা, আন্দোলনের ডাক
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আইবিএর ভবন নির্মাণের জন্য ২৫ হাজার স্কয়ার ফিটের নতুন জায়গা নির্ধারণ করেছে প্রশাসন। বিজ্ঞান কারখানার পাশে শালবনে ভবন নির্মানের জন্য সয়েলটেস্টসহ আনুষাঙ্গিক কাজ শুরু করে দেওয়া হয়েছে। এতে করে কেটে ফেলা হবে ২৫ হাজার স্কয়ার ফিটের মধ্যে অবস্থিত সকল গাছ। ফলে কাটা পরবে কয়েকশ শাল গাছসহ ছোট ছোট হাজার খানেক গাছ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রণীত মাস্টার প্লানের বিচ্যুতি হয়েছে দাবি করে এই পরিকল্পনা বাতিলের দাবি জানিয়েছে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনকারীরা।
বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) বিকাল তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব দাবি জানান। সেই সাথে মাস্টার প্লানের পূর্ণবিন্যাস ও দূর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত উপাচার্য ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবি নতুন কর্মসূচী ঘোষনা করেন ‘দুর্নীতি বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারের মুখপাত্র ও দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন।
উপাচার্যের অপসারনের দাবিতে আগামী ৬ মার্চ বটতলায় রাষ্ট্রীয় নির্লিপ্ততার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী সমাবেশ, ৮ও ৯ মার্চ ক্যাম্পাসব্যাপী গণ সংযোগ ও প্রচারনা, ১০মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে রাষ্ট্রীয় নির্লিপ্ততার প্রতিবাদে পতাকা মিছিল।
সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি দীপঙ্কর দীপের সঞ্চালনায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ সাধারন ছাত্র অধিকার পরিষদের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি আরমানুল ইসলাম খান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন,‘মাস্টার প্লানের বিচ্যুতি ঘটিয়ে সম্প্রতি বিজ্ঞান কারখানার পাশে শালবনে আইবিএ ভবন নির্মানের জন্য সয়েলটেস্টসহ আনুষাঙ্গিক কাজ শুরু করে দেওয়া হয়েছে। এতে করে কেটে ফেলা হবে ২৫ হাজার স্কয়ার ফিটের মধ্যে অবস্থিত সকল গাছ। আইবিএ ভবন নির্মান অত্যাবশ্যক হলেও কারো মতামত না নিয়ে কিসের ভিত্তিতে এই ভবন নির্মানের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এটা পরিষ্কার নয়। এর আগেও এই বিভাগের জন্য আরেকটি ত্রুটিপূর্ণ নকশা অনুমোদন করা হয়েছিলো যাতে করে ওই স্থানের অনেক গুলো গাছ কেটে ফেলা হয়েছিলো।’
তিনি আরও বলেন,‘ছাত্রলীগের ন্যাক্কারজনক হামলার চার মাস অতিবাহিত হলেও হামলাকারীদের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোন ধরনের পদক্ষেপ নেয় নাই। রাষ্ট্রীয় নির্লিপ্ততার সুযোগে ভিসি এখন ছুটছেন নয়া দুর্নীতির স্তুপে। রাষ্ট্রীয় নীরবতাকে দুর্নীতির গ্রীন সিগনাল ভেবেই হয়তো তিনি এমন খোলামেলা দুর্নীতির আয়োজন শুরু করেছেন। উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকি কমিটি সর্বদলীয় হওয়ার কথা থাকলেও তিনি সেটা নিজের দলের লোকদের নিয়েই করেছেন। যার মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধে রয়েছে দুর্নীতির অভিযোগ। তাদের মধ্যে একজন হলেন কর্মচারী সমিতির সাধারন সম্পাদক খাইরুল ইসলাম।’
এছাড়াও তিনি বলেন,‘ সম্প্রতি শিক্ষক নিয়োগে টাকা লেনদেনের বিষয়ে গুঞ্জন উঠেছে। যার মধ্যে পাবলিক হেলথ এন্ড ইফরমেটিকস বিভাগে তিন জন প্রভাষক নিয়োগে টাকা লেনদেন হয়েছে। এছাড়াও সাংবাদিকতা বিভাগের নিয়োগে যোগ্যদের সাক্ষাৎকারে না ডেকে টাকার বিনিময়ে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের একাংশের সভাপতির মেয়েকে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।’
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি মিখা পীরেগু, সাধারন সম্পাদক রাকিবুল রনি, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জাবি শাখার সভাপতি মাহাতীর মোহাম্মদ, সাধারন সম্পাদক সুধীপ্ত দে, সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুশফিকুস সালেহীন প্রমুখ।
এর আগেও আইবিএ বিভাগের জন্য নকশা অনুমোদন করা হয়েছিলো, ফলে অর্ধশতাধিক গাছ কেটে ফেলা হয়েছিলো। কিন্তু ছাত্র শিক্ষকের প্রতিবাদে সেই ভবন নির্মাণ করা হয়নি।’
বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস