পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য মজাহারুল হক প্রধানের পিএস পরিচয় দিয়ে অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে মাদ্রাসা শিক্ষকদের হজ্বে পাঠানোর কথা বলে বিকাশে টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় বুধবার বিকেলে সংসদ সদস্যর পরামর্শে পঞ্চগড় সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জান গেছে, বুধবার সকাল ১১ টার দিকে জেলা শহরের খানবাহাদুর মোখলেছুর রহমান আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুস সামাদসহ ছয়টি মাদ্রাসার ছয়জন অধ্যক্ষকে মুঠোফোনে অপরিচিত নম্বর থেকে (০১৯০৩৯৪৯০৬১) এক ব্যক্তি কল করেন। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে অজ্ঞাত ব্যাক্তি নিজেকে পঞ্চগড়-১ আসনের সাংসদ মজাহারুল হক প্রধানের পিএস পরিচয় দিয়ে বলেন প্রত্যেক মাদ্রাসার প্রধান অথবা প্রতিষ্ঠানের মনোনিত একজনকে সরকারি খরচে হজে পাঠানো হবে। এজন্য ওই নম্বরে সাত হাজার ৭০০ টাকা বিকাশে পাঠিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে বলা হয়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে খান বাহাদুর মখলেছুর রহমান আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সাংসদকে জানালে তিনি বিষয়টি ভিত্তিহীন এবং প্রতারণামুলক বলে জানান। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষকদের থানায় হাজির হয়ে সাধারণ ডায়েরি করার পরামর্শ দেন।
সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া নুরানী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, সকাল ১১ টার দিকে (০১৯০৩৯৪৯০৬১) নম্বর থেকে কল করে নিজেকে এমপির পিএস পরিচয় দিয়ে রেজিষ্ট্রেশনের জন্য টাকা পাঠাতে বলেন। পরবর্তীতে জানতে পারি, অনেকের কাছে এমন ফোন এসেছে। পরে বিষয়টি প্রতারণা বুঝতে পেরে থানায় অবহিত করি।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু আক্কাস আহমদ বলেন, সাংসদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে মুঠোফোনে প্রতারনার চেষ্টায় থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করা হয়েছে। মুঠোফোন নম্বরটি কে ব্যবহার করছেন তা জানার চেষ্টা চলছে। আমরা ইতোমধ্যে তদন্ত কাজ শুরু করেছি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য মজাহারুল হক প্রধান বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষকদের কাছে বিষয়টি জানতে পেরে অবাক হয়েছি। কোন প্রতারক হয়তো তাদের ফোন করে প্রতারণার চেষ্টা করেছে। আমি ওই শিক্ষকদের থানায় ডায়েরি করতে বলেছি। এছাড়া এধরনের প্রতারকদের কাছ থেকে সবাইকে সচেতন থাকতে বলেছি।
বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস