শুনানি হলো না সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় র‌্যাবের দেয়া সর্বশেষ অগ্রগতি প্রতিবেদনের শুনানি করেননি হাইকোর্ট। বুধবার (০৪ মার্চ) কার্যতালিকা থেকে মামলাটি বাদ দেয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, সাগর-রুনি হত্যা মামলার সন্দেহভাজন তানভীর রহমানের মামলা বাতিলের আবেদন এবং এ সংক্রান্ত অগ্রগতি প্রতিবেদন শুনানি জন্য হাইকোর্ট বেঞ্চে এক নম্বর ক্রমিক তালিকায় রাখা ছিল।

এ সংক্রান্ত মামলাটি বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি হওয়ার কথা ছিল।

এর আগে রিপোর্টে নতুন কিছু নেই জানিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন রুনির পরিবার। এতদিনেও খুনিদের চিহ্নিত করা গেল না কেন? এমন প্রশ্ন তুলেছেন আইনজ্ঞ শাহাদীন মালিক।

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার ৮ বছর পর উচ্চ আদালতে লিখিত প্রতিবেদনে তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব বলেন, খুনের সঙ্গে দু’জন অজ্ঞাত ব্যক্তির জড়িত থাকার কথা। এ দু’জনের ডিএনএ থেকে মুখাবয়ব সৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও জানানো হয়।

মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) সেই প্রতিবেদনের বিষয়ে খোঁজ নিতে উচ্চ আদালতে আসেন রুনির মা ও ভাই। পরে রুনির ভাই জানান, র‌্যাবের প্রতিবেদনে নতুন কিছু উঠে না আসায় আশাহত তারা।

এর আগে সোমবার সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাবের খন্দকার শফিকুল আলম হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সর্বশেষ অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দু’জন অপরিচিত যুবক জড়িত ছিল। সাগরের হাতে বাঁধা চাঁদর এবং রুনির টি-শার্টে ওই দুই যুবকের ডিএনএ’র প্রমাণ মিলেছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করেছে র‌্যাব।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই মামলায় তানভীরের অবস্থা রহস্যজনক। এই মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি (বিচারিক আদালতে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে) দেয়া যুক্তিযুক্ত হয়নি। অন্যদিকে, আমেরিকা পাঠানো ডিএনএ নমুনার সঙ্গে অপরিচিত দুই ব্যক্তির ডিএনএ’র মিল পাওয়া গেছে।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাড়িতে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির ক্ষতবিক্ষত লাশ পাওয়া যায়। সাগর তখন মাছরাঙা টিভিতে আর রুনি এটিএন বাংলায় কর্মরত ছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের সময় বাসায় ছিল তাদের সাড়ে চার বছরের ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ। এ হত্যাকাণ্ডে দেশব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এ মামলায় মোট ৮ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন- রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মো. সাইদ, মিন্টু, কামরুল হাসান ওরফে অরুণ, সাগর-রুনির ভাড়া বাসার নিরাপত্তা প্রহরী এনামুল, পলাশ রুদ্র পাল এবং নিহত দম্পতির বন্ধু তানভীর রহমান। তাদের মধ্যে প্রথম পাঁচজনই মহাখালীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালের চিকিৎসক নারায়ণ চন্দ্র হত্যার ঘটনায় র‌্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রেফতার হন। প্রথম পাঁচজন ও নিরাপত্তারক্ষী এনামুল এখনও এই মামলায় কারাগারে।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর