সিরাজগঞ্জে ব্যবহারিক পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভনে অর্থ আদায়

সিরাজগঞ্জের যমুনা বিধ্বস্ত চৌহালী উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন বিভাগের ব্যবহারিক পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও দুর্নীতির তদন্ত দাবি করে ইউএনও ও শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে পরীক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

লিখিত অভিযোগ, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, চৌহালী উপজেলায় এ বছর ২০টি উচ্চ বিদ্যালয় ও ১৫টি দাখিল মাদরাসা থেকে এসএসসি ও দাখিলে ৩ হাজার ২৮৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

এর মধ্যে পশ্চিম জোতপাড়া এলাকায় অবস্থিত জনতা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮৮ জন বিজ্ঞান বিভাগ ও মানবিক-ব্যবসায় শাখায় সাতজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

সোমবার জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগের রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের ব্যবহারিকের পরীক্ষা ছিল। খাতা মূল্যায়ন ও মৌখিক পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১ হাজার ২০০ করে টাকা দাবি করা হয়। তবে শিক্ষক ও বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের আত্মীয়-স্বজনদের নিকট থেকে ৭শ করেও নেওয়া হয়েছে। যারা অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকার করেছে তাদের পরীক্ষায় খাতা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় পরীক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রথমে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে। এ সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলুল হকের বিরুদ্ধে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার তদন্তের দাবি জানিয়ে পরীক্ষার্থী সেলিম রেজা, আসাদুল ইসলাম ও আব্দুল্লাহ সাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ হস্তান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীরা জানান, ফরম পূরণের সময় বোর্ড নির্ধারিত ফির চেয়ে বেশি অর্থ নেওয়া হয়েছে। এখন আবার নতুন করে ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য ১ হাজার ২০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ব্যবহারিক খাতা মূল্যায়নের জন্য ৭শ ও মৌখিক পরীক্ষার জন্য ৫শ টাকা। দাবিকৃত টাকা না দেওয়া হলে পরীক্ষার খাতায় ভালো নম্বর দেওয়া হবে না বলে বিদ্যালয় থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক জানান, অতিরিক্ত টাকা নেওয়া ঠিক হয়নি, কালকে শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। এটা তেমন বড় কিছু না, ওরা ছোট মানুষ, না বুঝে এসব করেছে। আমি এর সঙ্গে জড়িত না, অন্য শিক্ষকরা এ রকম কিছু করতে পারে।

এ দিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেন জানান, ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে কোনো ফি নেওয়ার সুযোগ নেই। এ ঘটনায় বাহিরে বেশ কিছু শিক্ষার্থী জড়ো হয়েছিল। অভিযোগ হাতে পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান মওদুদ আহমেদ জানান, অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোন সুযোগ নেই, অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেওয়া হলে ভালো, তা না হলে তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর