সর্বব্যাপী বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বে মানুষের প্রত্যাশিত আয়ু প্রায় তিন বছর কমছে। একই কারণে প্রতিবছর ৮৮ লাখ (৮ দশমিক ৮ মিলিয়ন) অকালমৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। অ্যালকোহলের চেয়ে বায়ুদূষণে হয় ৩ গুণ বেশি মৃত্যু। তবে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে পারলে আয়ু এক বছরের বেশি বাড়তে পারে।
মঙ্গলবার(৩রা মার্চ) বায়ুদূষণ নিয়ে কার্ডিওভাস্কুলার রিসার্চ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, অণুর বিষাক্ত ককটেল ও তেল-গ্যাস-কয়লা পোড়া থেকে সৃষ্ট যেসব কণা ফুসফুসে আটকে থাকে, তা দূর করার মাধ্যমে পুরো এক বছরের আয়ুষ্কাল পুনরুদ্ধার করা যায়।
গবেষণায় বলা হয়েছে, তামাক সেবনের চেয়েও বায়ুদূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য একটা বড় ঝুঁকির বিষয়। ম্যালেরিয়ার তুলনায় বায়ুদূষণে অকাল মৃত্যুর হার ১৯ গুণ, এইচআইভি বা এইডসের তুলনায় ৯ গুণ এবং মদপানের তুলনায় তিনগুণ বেশি।
দূষণের কারণে বছরে ৮৮ লাখের অর্ধেক মারা যায় হৃদরোগ আক্রান্ত হয়ে ও স্ট্রোকে, বাকী অর্ধেক মারা যায় ফুসফুসের রোগ এবং ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপের মতো অসংক্রামক রোগে।
দূষণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার এশিয়া মহাদেশ। এই অঞ্চলের বৃহৎ অর্থনীতির দেশ চীনে দূষণে মানুষের আয়ু কমছে ৪ বছর এক মাস। তালিকায় পরের অবস্থানে থাকা পাকিস্তানের বাসিন্দাদের গড় আয়ু কমছে তিন বছর আট মাস।
গবেষণা প্রতিবেদনের জ্যেষ্ঠ লেখক থমাস মুনজেল বলেন, ‘আমাদের গবেষণার ফল বলছে, বায়ুদূষণ মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়বে। তবে বায়ুদূষণ প্রতিরোধযোগ্য।’
বার্তাবাজার/কে.জে.পি