সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩২২ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। ৩২৩ রানের টার্গেট দাড়ায় জিম্বাবুয়ের সামনে।
টস জিতে দুই পরিবর্তন নিয়ে ব্যাটিংয়ে আসেন তামিম-লিটন। তবে ইনিংসের ৭ম ওভারে তামিমের শট মুম্বার হাতে ছুঁয়ে লাগে স্ট্যাম্পে আর সে সময় উইকেটের বাইরেই ছিলেন গেল ম্যাচের নায়ক লিটন। তাতেই রান আউটে কাটা পড়েন লিটন। দলীয় ৩৮ এবং ব্যক্তিগত মাত্র ৯ রানে ফিরতে হয় এই ডানহাতি ওপেনারকে।
লিটনের পর উইকেটে সেট হতে পারেননি নাজমুল হোসেন শান্ত। অদ্ভুতুড়ে রান আউটের শিকার হয়ে মাঠ ছাড়েন এই বামহাতি। ১১তম ওভারের দ্বিতীয় বল ফাইন লেগে ঠেলে দেন শান্ত। তামিমের সাথে ভুল বোঝাবুঝিতে ফিরতে হয় শান্তকে। দলীয় মাত্র ৬৫ রানে ৯ রান করা শান্তকে ফিরতে হয়।
দুই উইকেট হারানোর পর উইকেটে আসেন মুশফিকুর রহিম। তামিমের সঙ্গে ৮৭ রানের জুটি গড়েন এই লিটল মাস্টার। করলেন ক্যারিয়ারের ৩৮তম অর্ধশতকও। আর এরপরেই মাধেভেরের শিকার হয়ে ফিরলেন দলীয় ১৫২ রানে।
মাঠ ছাড়ার আগে মুশফিক করেন ৫০ রান। এরপর তামিমের সঙ্গে ৪র্থ উইকেটে রিয়াদ গড়লেন শতরানের জুটি। তবে ৪৩তম ওভারে ব্যক্তিগত ৪১ রানে ফেরেন রিয়াদ। আর তাতেই ভাঙে তামিমের সঙ্গের ১০৬ রানের জুটি।
২০০৯ সালে বুলাওয়েতে এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই ১৫৪ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তামিম। এটিই ছিল এতদিন পর্যন্ত তামিমের একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ এবং বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের জন্যও এটি ছিলো সর্বোচ্চ।
এবার সেই নিজেকেই ছাড়িয়ে গেলেন তামিম। গত কয়েকদিন ধরে তার খেলার ধরণ আর আউট নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছিল মাঠের ভিতর বাহির সব জায়গায়। সব সমালোচনার জবাব তামিম মাঠেই দিলেন, এমনই জবাব সমালোচকদের মুখ খোলার উপায়ই রাখলেন না।
সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ১০৬ বলে, ১৩২ বলে করেন ১৫০। অর্থাৎ সেঞ্চুরির পরের ফিফটি তুলতে তামিম খরচ করেছেন ২৬ বল। নিজের দিনে তিনি কি না করতে পারেন দেখিয়ে দিলেন খান সাহেব। শেষ পর্যন্ত ১৩৬ বলে ১৫৮ রানে থামেন তামিম।
এর আগে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ১৬৯ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে সিরিজে ১-০’তে এগিয়ে মাশরাফি’র দল। আর তাই তো সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করতে চায় টিম টাইগার্স।
বার্তাবাজার/কেএ