পঞ্চগড়ে গৃহবধু হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

পঞ্চগড়ের বোদায় গৃহবধু সাবিনা ইয়াসমিন ছন্দার হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন এবং বিক্ষােভ মিছিল করেছে নিহত গৃহবধুর পরিবার ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে পঞ্চগড় শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে নিহত গৃহবধু ছন্দার পরিবার ও এলাকাবাসী।
এ সময় মানববন্ধনে নিহত গৃহবধুর পরিবার,এলাকাবাসী ও সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন,পঞ্চগড় জেলা পরিষদের সদস্য ও বেসরকারী এনজিও পরস্পরের নির্বাহী পরিচালক আকতারুন নাহার সাকী, নিহত গৃহবধুর বাবা নুর ছালাম,মা সখিনা বেগম,চাচা আব্দুর সাত্তার।

বক্তারা গৃহবধু সাবিনা ইয়াসমিন ছন্দাকে পরিকল্পিতভাব হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করে অবিলম্বে খুনিদের গ্রেফতার ও সুষ্ঠ বিচার এবং ফাঁসির দাবী জানান।

মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষােভ মিছিল নিয়ে পঞ্চগড় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ নাঈমুল হাসান এর হাতে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মােঃ নাঈমুল হাসান স্মারকলিপি গ্রহণ করেন এবং বলেন ওমর ফারুক বর্তমানে বরখাস্ত হয়ে আছে। অপরাধী যে হোক, যেখানেই থাকুক আইনের আওতায় আনা হবে।

স্মারকলিপিতে নিহত গৃহবধুর বাবা নুর ছালাম জানায়, গত ২২ অক্টােবর ২০১৬ সালে পঞ্চগড়ের বােদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের ডাবরভাঙ্গা এলাকার আলতাফুর মাষ্টারের ছেলে ( বর্তমানে এপিবিএনে কর্মরত) ওমর ফারুকের সাথে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সুখানপুকুরী এলাকার নুর ছালামের মেয়ে সাবিনা ইয়াসমিনের বিয়ে হয়।

বিয়ের সময় মেয়ের সুখের জন্য সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা ও ২ ভরি স্বর্ণ যৌতুক হিসেবে দেয়া হয়। যৌতুক লােভী স্বামী ওমর ফারুক আরও টাকা ছন্দাকে বাবার বাড়ি থেকে আনতে বলে। ছন্দা টাকা আনতে অনিহা প্রকাশ করলে ছন্দার উপর চলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় স্বামী ,শশুর, শাশুড়ি।
এদিকে ওমর ফারুকের অন্য মেয়ের সাথে সম্পর্ক রয়েছে বলে জানায় ছন্দার পরিবার।

জানা যায় গত ১৭ জানুয়ারী পঞ্চগড়ের তেতুলিয়ায় ইত্যাদি অনুষ্ঠান দেখতে যাওয়ার বায়না ধরে গৃহবধু ছন্দা। এনিয়ে কথা-কাটাকাটি হলে স্বামী ওমর ফারুক ও তার পরিবারের সদস্যরা মিলে লাঠি দিয়ে মারপিট করলে মৃত্যুর কােল ঢলে পড়ে ছন্দা।

ঘটনা অন্যদিকে প্রবাহিত করতে বাড়িতে থাকা বিষ ছন্দার মুখে ঢেলে দেয় স্বামী ওমর ফারুক ও তার পরিবার। ছন্দার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাৎক্ষনিক তাকে বােদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করলে রংপুর নিয়ে যাওয়ার পথে রাত ১ টায় ছন্দা মারা যায়।

এ ঘটনায় বােদা থানায় ছন্দার বাবা গত ১৮ জানুয়ারী ওমর ফারুকসহ ৪ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর