এক্স-রে মেশিন থেকেও নেই, ভোগান্তিতে রোগীরা
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে বিভাগটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে হাসপাতালে আগত রোগীদের প্রয়োজনে এক্স-রে করতে বাইরের বিভিন্ন রোগ নির্ণয় কেন্দ্রে যেতে হচ্ছে। এতে রোগীদের যেমন বাড়তি খরচ হচ্ছে, তেমনি আসা-যাওয়ায় গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, জরুরী বিভাগে বেশ কয়েকজন রোগীকে কর্তব্যরত চিকিৎসক এক্স-রে করার পরামর্শ দেন। রুগীরা এক্স-রে করতে এক্স-রে বিভাগে গিয়ে দেখেন দরজায় তালা ঝুলানো। পরে বাধ্য হয়েই বাইরের বিভিন্ন রোগনির্ণয় কেন্দ্রে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে এক্সরে করিয়ে আনছেন।
হাসপাতালের এক্স-রে বিভাগ বন্ধ থাকায় এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বেসরকারি বিভিন্ন রোগনির্ণয় কেন্দ্রও দরিদ্র- অসহায় মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা।
মারধরের ঘটনায় আহত আজাদ শেখ(৪০) নামের এক অসুস্থ রুগীকে স্বজনেরা ধরাধরি করে হাসপাতালের বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন। জানতে চাইলে আজাদ শেখের এক স্বজন বলেন, ‘হাসপাতালে এক্স-রে ম্যাশিন থাকতিও অসুস্থ ব্যক্তিটিকে এক্স-রে করতি বাইরে নিয়ে যাইতে হচ্ছে। তারপরে আবার বাইরে খরচও দ্বিগুণ।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী মো. আক্তারুজ্জামান মিয়া জানান, ‘এক্স-রে মেশিনটি প্রায় ছয় মাস নষ্ট থাকার পর মেরামত করা হয়। পরে টেকনেশিয়ান কৃষ্ণ কান্তি সূত্রধরের গলায় ক্যান্সার হওয়ায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকার কারণে আবার মাস দেড়েকের মত বন্ধ রয়েছে।’
জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘বিগত ছয় মাস যাবত এক্স-রে মেশিনটি নষ্ট ছিলো। সম্প্রতি ঢাকা থেকে ইঞ্জিনিয়ার এসে তা মেরামত করে গেছে। কিন্তু আমাদের যে টেকনেশিয়ান উনি প্রায় দেড়/দুই মাসের মত দুরাগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই কারণে বর্তমানে বিভাগটি বন্ধ রয়েছে।’
বার্তাবাজার/কেএ