রাকিব-রাসেল হত্যার প্রতিবাদে জাবি ছাত্রলীগের বিক্ষোভ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা রাকিব ও কয়রা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাদীউজ্জামান রাসেলকে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বেলা ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে উপ-দপ্তর সম্পাদক এম মাইনুল ইসলাম রাজন বলেন, ‘ছাত্রলীগ ভাল কাজ করলে সুশীল সমাজের চোখে পড়ে না। কিন্তু খারাপ কাজ করলে তার সমালোচনায় পঞ্চমুখ হয়ে ওঠে। মিড়িয়াও শুধু আমাদের খারাপ দিকগুলো তুলে ধরে। আমরা তাদের বলতে চাই-আমাদের ভাল খারাপ উভয়দিক সমানভাবে তুলে ধরুন। জামাত শিবিরের রাজনীতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ। সারা বাংলাদেশেও নিষিদ্ধ। তাদের এই অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে এবং অতিশীঘ্রই রাবিব ও রাসেল হত্যার বিচার সম্পন্ন করতে হবে।’

উল্লেখ্য, গত রবিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আমান উল্যাহপুর বাজারে আড্ডা দিচ্ছিলেন কয়েকজন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। এ সময় শিবিরের কয়েকজন বাজারে এসে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালালে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ ছাত্রলীগের প্রায় সাতজন নেতাকর্মী আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে রাকিব সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরে ৩ মার্চ পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনী রাকিব হত্যা মামলার ২ নম্বর আসামি শিবিরকর্মী নজরুল ইসলাম ধরতে গেলে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন।

রাকিব হোসেন আমান উল্যাহপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড শিপন পাটোয়ারী বাড়ির সফি উল্যার ছেলে। তিনি আমান উল্যাপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

অন্যদিকে এলাকার খালের ওপর একটি সেতুর নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে গত রবিবার বিকালে সংঘর্ষে আহত হন খুলনার কয়রা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাদীউজ্জামান রাসেল। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে সোমবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। নিহত রাসেল কয়রার বাইলাহারানিয়া গ্রামের আবদুস সাত্তার সানার ছেলে।

এসময় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মো. মিজানুর রহমান, আজিজুর রহমান নিলু, বায়েজিদ রানা কলিংস, জহিরুল ইসলাম বাবু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফফান হোসেন আপন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. তারেক হাসান, অভিষেক মন্ডল উপ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ঈসমাইল হোসাইন প্রমুখ সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আল বেরুনি হল, শহীদ সালাম-বরকত হল, মীর মশাররফ হোসেন হল, মওলানা ভাসানী হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, শহীদ রফিক-জব্বার হল ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল ইউনিটের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর