সদ্য বহিষ্কৃত যুব মহিলালীগ নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউর অন্যতম আস্তানা ছিল ওয়েষ্টিন হোটেল। এই হোটেলে নিয়মিত যাতায়াত ছিল সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এমন ব্যক্তিদের তালিকা করেছে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা। ওই তালিকায় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব ও সংসদ সদস্যসহ ক্ষমতাসীন দলের একাধিক শীর্ষ নেতা রয়েছেন।
ওয়েস্টিন হোটেলের ক্লোজ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও পাপিয়ার মোবাইল ফোনের ভিডিও পর্যালোচনা করে তালিকা তৈরি করেছে গোয়েন্দা সংস্থাটি। ইতিমধ্যেই ওই তালিকাসহ একটি প্রতিবেদন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে দাখিল করা হয়েছে।
অন্যদিকে গত ২২ ফেব্রুয়ারি পাপিয়া ও তার স্বামী সুমনসহ অপর দুই সঙ্গীকে গ্রেফতারের দিনই ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা এক শীর্ষ কর্মকর্তা পাপিয়াকে ১৭ বার ফোন করেন। গোয়েন্দা সংস্থাটি তাদের প্রতিবেদনে এই তথ্যও উল্লেখ করেছে। পাপিয়ার মোবাইল ফোনের কললিস্ট থেকে গোয়েন্দা সংস্থাটি এসব তথ্য পেয়েছে।
সূত্রটি জানায়, ভয়াবহ বিপদের কথা জানিয়ে শীর্ষ ওই কর্মকর্তা পাপিয়া ও তার স্বামীকে দ্রুত দেশ ছাড়ার পরামর্শ দেন। এর পরই পাপিয়া দম্পতি দুই সহযোগীকে নিয়ে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান।
তবে তার আগেই এ খবর পৌঁছে যায় র্যাবের অনুসন্ধানকারী দলটির কাছে। বিমানবন্দরে বোর্ডিং কার্ড সংগ্রহের সময় সাদা পোশাকে র্যাবের ওই দলটি তাদের আটক করে।
গোয়েন্দা সংস্থার ওই তালিকা অনুযায়ী, শীর্ষ ২১ জন কর্মকর্তা ছাড়াও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের আরও পাচ জনকে ওই আস্তানায় কয়েকদফা দেখা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওয়েষ্টিনের যে ‘প্রেসিডেনশিয়াল স্যুট’ ভাড়া নিয়ে পাপিয়া তার ‘পাপের’ আস্তানা গড়ে তুলেছিলেন গোয়েন্দা সংস্থাটি তার আশপাশে থাকা সিসি ক্যামেরার গত এক মাসের ফুটেজ সংগ্রহ করার পর তা পর্যালোচনা করে। পর্যালোচনায় পাপিয়ার আস্তানায় যাতায়াত ছিল এমন ৫ জন সচিব, ১০ জন সংসদ সদস্য, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক দুই নেতা, দুই জন মন্ত্রী, একজন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন।
এছাড়া গোয়েন্দা সংস্থার করা এই তালিকায় ছাত্রলীগের সাবেক এক সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক এক শীর্ষ নেতা আছেন। নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় সম্প্রতি স্বেচ্ছাসেবক লীগের ওই নেতা দলীয় পদ হারিয়েছেন।
গোয়েন্দা সংস্থার জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক তদন্তে যাদের নাম পাওয়া গেছে সেই তালিকা এবং পাপিয়াকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে তার আলোকে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে, যা সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে দাখিল করা হয়েছে।
তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, অনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তার আস্তানায় আসা ব্যক্তিদের গোপন ভিডিও সংগ্রহ করে তা প্রকাশের ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা এবং বিভিন্ন কাজ বাগিয়ে নিতেন।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি পাপিয়াকে র্যাব গ্রেফতার করে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাসে তার অপরাধ জগতের বিস্তারিত তথ্য জানতে তিন মামলায় পাপিয়া ও তার স্বামী সুমনকে ১৫ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। বর্তমানে পাপিয়া দম্পতি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস