কক্সবাজারের টেকনাফে র্যাবের সঙ্গে রাতভর ডাকাত জকির বাহীন সাথে গুলাগুলির ঘটনায় ৭জন রোহিঙ্গা ডাকাত সদস্য নিহত হয়েছে। টেকনাফের জাদিমোরা, শালবাগান ও মোছনী ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ে রোববার মধ্যরাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত দফায় দফায় বন্দুযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থল হতে অস্ত্র-গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। র্যাব’র দাবী নিহতরা সবাই দূধর্ষ রোহিঙ্গা ডাকাত জকির গ্রুপের সদস্য। এই সময় ঘটনাস্থল হতে ডাকাত সর্দার জকিরসহ আরো ৬জন পালিয়েছে বলে জানা গেছে।
র্যাব-১৫ এর কোম্পানী কমান্ডার লেঃ মির্জা শাহেদ মাহতাব জানান, জাদিমুরা (ক্যাম্প-২৭) রোহিঙ্গা শিবিরের পেছনে জকির গ্রুপ দলবল নিয়ে অবস্থান করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব ১৫ এর একটি দল রাতে অভিযান চালায়। এসময় ডাকাত দলের সদস্যরা র্যাব সদস্যদের উপর গুলিবর্ষণ করে।

এ সময় র্যাবও পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। এভাবে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত দফায় দফায় বন্দুকযুদ্ধ চলে। র্যাব সদস্যরা ৭০-৮০ রাউন্ড গুলিবর্ষন করে। একপযার্য়ে গোলাগুলি থেমে গেলে ঘটনাস্থলে তল্লাশী চালিয়ে ৭ জনের গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা হয় ৩টি বিদেশী পিস্তল ও ৭টি ওয়ান শ্যুটার গান, ১২ রাউন্ড কাটুর্জ ও ১৩ রাউন্ড পিস্তলের গুলি। র্যাবের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে না পারলেও তারা সবাই নয়াপাড়া, শালবাগান ও জাদিমোরা রোহিঙ্গা শিবিরের ফারুক, নুরুল আলম নুরাইয়া, জমিল, জুবাইর, আয়াছ, বাচ্চু ও আজু বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল হতে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করেন।
এদিকে গত ৩ ফেব্রুয়ারী টেকনাফের নয়াপাড়া নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জকির ও তার বাহিনীর সদস্যরা রোহিঙ্গা শিবিরে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।
এই সময় শিশুসহ ১৩ রোহিঙ্গা গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ২০ জন। পরেরদিন ৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে টেকনাফে রোহিঙ্গা শিবিরে অভিযানে গেলে আবারও র্যাবের উপর হামলা করে জকির বাহিনী। এতে অন্তত ১২ জন র্যাব সদস্য আহত হয়। র্যাবের গুলিতে নিহত হয় জকির বাহিনীর সদস্য ইলিয়াছ ডাকাত।
সে টেকনাফের-২৬ নম্বর ক্যাম্পের ডি-ব্লকের বাসিন্দা। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় বন্দুক, একটি ওয়ান শ্যুটার গান ও চারটি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নেতৃত্বে রয়েছে আবদুল হাকিম ডাকাত, জকির, কামাল ও সালমান খান। তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইয়াবা পাচার, অপহরণ, ডাকাতি, খুন ও মানব পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত।
বার্তাবাজার/কেএ