হাবিপ্রবির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যকে লাঞ্চিত করার অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ এবং কৃষি অনুষদের অধ্যাপক ড. বিধান চন্দ্র হালদারকে লাি তের ঘটনা ঘটেছে বলে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন।

সোমবার দুপুরে ওই শিক্ষককে লাি তের ঘটনা ঘটলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ ও বিচার চেয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (০২ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. বিধান চন্দ্র হালদারকে তাঁর কৃষি অনুষদীয় উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের বিভাগীয় অফিস কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য গঠিত সংগঠন “অনাচার ও নিপীড়ন বিরোধী মে র” সদস্যবৃন্দ গিয়ে লাঞ্ছিত ও অপমানিত করে। এর প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করে অনুষদীয় সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘জামাত-বিএনপিপন্থীর পৃষ্ঠপোষক তথাকথিত অনাচার ও নিপীড়ন বিরোধী ম আমাদের অনুষদে গিয়ে আমাদেরই একজন সম্মানিত শিক্ষককে সবার সামনে লাঞ্ছিত ও অপমানিত করবে আমরা তা কখনোই মেনে নিতে পারবো না।

যারা শিক্ষকতার মতো পেশায় থেকে অন্যায়ভাবে গায়ের জোর দেখিয়ে অন্য একজন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করে তাদের শিক্ষকতা করার কোন যোগ্যতা নাই। হাস্যকর বিষয় যে, এরা নিজেরাই অনাচার নিপীড়ন বিরোধী ম তৈরি করে নিজেরাই আবার অনাচার নিপীড়ন করে বেড়াচ্ছে। এসব সন্ত্রাসীদের হাবিপ্রবির ক্যাম্পাসে ঠাঁই হবে না। আজকের এই মানববন্ধনের পর থেকে আমরা তাদের অবাি ত ঘোষণা করলাম।’

লাঞ্ছনার শিকার কোষাধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. বিধান চন্দ্র হালদার জানান, পূর্বানুমতি না নিয়ে তথাকথিত অনাচার ও নিপীড়ন বিরোধী মে র কয়েকজন সদস্য আমার বিভাগীয় অফিসে আকস্মিকভাবে প্রবেশ করে আমাকে দেখে নেয়ায় হুমকি দেন।

এ সময় আব্দুর রশিদ পলাশ, ফেরদৌস মেহবুব, আদিবা মাহজাবিন নিতু, হাসান জামিল, মামুনুর রশিদ, মোমিনুলসহ আরো কয়েকজন আমাকে বলেন, আপনি কোন তদন্ত কমিটির কাজ করতে পারবেন না এবং আগামীকালের মধ্যেই আব্দুর রশিদের বেতন দিতে হবে বলে চড়াও হন।

তিনি আরও বলেন, রিজেন্ট বোর্ডের মাইনুটস (লিখিত আকারে সিদ্ধান্ত) এবং মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর স্যার না আসা পর্যন্ত আমার পক্ষে কোন বেতন দেয়া সম্ভব না। কোষাধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. বিধান চন্দ্র হালদার আরও বলেন, ‘আমি নিজেই তো বর্তমানে উপাচার্যের দায়িত্বে আছি।

তারপরেও আমি এ বিষয়ে রেজিস্ট্রারের সাথে কথা বলেছি। উপাচার্য স্যার আসলে আমরা এরপর দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং শিক্ষামন্ত্রনালয় বরাবর লিখিত অভিযোগ করব। কারণ এইসব লোকই বিশ্ববিদ্যালয়কে বারবার উত্তেজিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।’

এ বিষয়ে অনাচার ও নিপীড়ন বিরোধী মে র সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগি অধ্যাপক আব্দুর রশিদ পলাশের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার এ বিষয়ে কিছু জানা নেই। স্যার আমার নামে এরকম কোন অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানি না। আমি স্যারের কাছে আগে শুনি তারপর দেখা যাবে।

আর মৌখিক অভিযোগ করে যদি কালকে অস্বীকার করে তাহলে তো বিপদ! দেখি স্যারের সাথে কথা বলে তিনি কি বলেন।’ উল্লেখ্য, এর আগে নবগঠিত অনাচার ও নিপীড়ন বিরোধী মে রই জাহাঙ্গীর আলম নামের এক সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের সদস্যকে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজসহ বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তিদের হুমকি ধমকি প্রদান করার অভিযোগে অভিযুক্ত হন।

তারই প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি করে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়া দায়িত্বে অবহেলা, মিথ্যাচার এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮তম রিজেন্ট বোর্ডে নিপীড়ন বিরোধী মে র কয়েকজন সদস্যকে সাময়িক শাস্তিও প্রদান করে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

বার্তাবাজার/কেএ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর