“বাঙালিয়ানায় সাজবো সাজ, পিঠা উৎসবে মাতবো আজ” এ স্লোগানকে সামনে রেখে বাঙ্গালি সংস্কৃতিকে লালন ও ধারণ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) বর্ণিল পিঠা উৎসবের আয়োজন করেছে বাংলা বিভাগ৷

সোমবার সকাল ১০ টায় আনন্দ র্যালির মাধ্যমে পিঠা উৎসব শুরু হয়৷ র্যালি শেষে বাংলা বিভাগের সভাপতি মোঃ আব্দুর রহমান এর সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ড. মোঃ শাহজাহান কেক কেটে পিঠা উৎসবের উদ্ভোধন করেন৷

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোঃ শাহজাহান বলেন, “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগ প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও পিঠা উৎসবের আয়োজন করছে৷ এটা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য হয়ে দাড়িয়েছে৷

আসলে আমাদের বর্তমান যে সংস্কৃতি ফাস্টফুড কিংবা বৈদেশিক খাবারে সংস্কৃতি৷ এ সংস্কৃতির মাঝে আমাদের দেশীয় যে খাবারের ঐতিহ্য সেটা যেন হারিয়ে না যায়৷ বাঙালি সংস্কৃতির শিকরের কাছাকাছি আমরা যেন থাকতে পারি সেজন্য বাংলা বিভাগ প্রতি বছর এটা আয়োজন করে৷”
তিনি আরও বলেন, “আমার বিশ্বাস এর দ্বারা শিক্ষার্থীরা আমাদের যে আসল সংস্কৃতি তার মূলধারায় ফিরে যাবে৷ বর্তমানের যে বিভিন্ন অত্যাধুনিক খাবার সেই যুগেও যেন শিক্ষার্থীরা আমাদের সংস্কৃতির খাবারের সাথে পরিচিত থাকতে পারে তার ক্ষুদ্র চেস্টা বাংলা বিভাগের৷ আমি আশা করি এর মাধ্যমে বাংলা বিভাগ যে উদ্দেশ্যে এ আয়োজন করছে সেটা সফল ও সার্থক হোক৷”
সকলকে মুজিব বর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে পিঠা উৎসব সম্পর্কে বাংলা বিভাগের সভাপতি মোঃ আব্দুর রহমান বলেন, “নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালিদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি তুলে ধরার জন্য প্রতিবছরের ন্যায় এবারও আমরা এই পিঠা উৎসব এর আয়োজন করেছি। তবে এই বারের আয়োজনে আমাদের শিক্ষার্থীরা আরো কিছু নতুন নতুন পিঠা সংযোজন করেছে।
এখন বাঙালিরা অনেক পিঠা সম্পর্কে জানেই না, এরকম পিঠা আছে বা এমন পিঠা হয় থাকে। সাধারনত স্বল্প কিছু পিঠাই আমরা শুধু দেখে থাকি ঘরে বাহিরে। নতুন করে তাদের কাছে বাঙালিদের পিঠার রং,রুপ, গন্ধ,রসের যে বৈচিত্র্য আছে তা তুলে ধরার জন্যই আমাদের এই ছোট্ট প্রয়াস”
জানা যায়, পুলি পিঠা, মাছ পিঠা, গােকুল পিঠা, মাংসের পিঠা,জামাই পিঠা, পাকোয়ান পিঠা, খেজুর পিঠা, সেমাই পিঠা, পাকান পিঠা, কুলশি পিঠা, দুধ পুলি, চুই ঝাল পিঠা, চিংড়ি পিঠা, পাতা পিঠাসহ ৮০’র অধিক ধরনের ঐতিহ্যবাহী পিঠা নিয়ে উৎসবের আয়োজন করেন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
এব্যাপারে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী রাজু জানান, “পিঠা উৎসব বাঙালিয়ানার এক উৎসব৷ বশেমুরবিপ্রবি’র বাংলা বিভাগ প্রতিবছর এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে। নানা ধরনের পিঠা বানিয়ে এনেছে সকল শিক্ষার্থীরা। সকলের আগমনে আমাদের উৎসব আরো প্রানবন্ত হয়ে উঠেছে। সেই সাথে বাংলার সুন্দর সুন্দর পিঠার নাম, তার রুপ বৈচিত্র্য এবং সেই স্বাদ নিতেই সবাই আনন্দঘন করে তুলেছে প্রতিটি স্টল প্রাঙ্গণ।”
এছাড়াও পিঠা উৎসবে বিভাগের চলমান প্রত্যেক ব্যাচ অংশ নিয়ে পৃথকভাবে পিঠা প্রদর্শন করেন।
বার্তাবাজার/এমকে