অনলাইনসহ বিভিন্ন উপায়ে সারাদেশে গুজব ছড়ানো ও গণপিটুনি দিয়ে মানুষ হত্যা রোধকল্পে হাইকোর্ট কর্তৃক ৫ দফা নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়েছে।
রাজধানীর বাড্ডায় গণপিটুনিতে তাসলিমা বেগম নামের এক নীরিহ নারীকে হত্যার কারণে জারি করা রুলের চুড়ান্ত শুনানির পরে রবিবার (১লা মার্চ) বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি এম এনায়েতুর রহমানের যৌথ সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ নির্দেশনা জানান। রিটের পক্ষে আইনজীবি হিসাবে ছিলেন এডভোকেট ইশরাত হাসান।
হাইকোর্টের দেয়া ৫ দফা নির্দেশনা হলো-
১. গণপিটুনির বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার প্রচার কার্যক্রম ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় অব্যাহত রাখবে।
২. পুলিশের প্রত্যেক সার্কেল অফিসার (এএসপি) তার অধীনের প্রতিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি)সঙ্গে ৬ মাসে অন্তত একবার গণপিটুনি প্রবণতার বর্তমান অবস্থা নিয়ে মিটিং করবেন।
৩. যখনই গণপিটুনির কোনও ঘটনা ঘটবে কোনোরকম দেরি না করে তখনই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এফআইআর নিতে বাধ্য থাকবেন। পরে তা সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারকে অবহিত করবেন
৪. গণপিটুনিতে তাসলিমা বেগম রেনু হত্যার ঘটনায় উত্তর বাড্ডা প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের অবহেলা ছিল কিনা সে ব্যাপারে ঢাকার জেলা শিক্ষা অফিসার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।
৫. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোনও ধরনের অডিও, ভিডিও, খুদে বার্তা—যা গুজব সৃষ্টি বা গণপিটুনির ক্ষেত্রে মানুষকে উসকানি দিতে পারে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা বন্ধের ব্যবস্থা নেবে। যে দুষ্কৃতকারীরা এই কাজে জড়িত তাদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে।
একটি গুজবকে কেন্দ্র করে গতবছরের ২০ জুলাই রাজধানীর বাড্ডায় গণপিটুনিতে তাসলিমা বেগম রেনুকে হত্যার প্রেক্ষাপটে করা এক রিট আবেদনে হাইকোর্ট এই রুল জারির আদেশ দেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করেন।
পদ্মা সেতু নিয়ে একটি গুজবকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে একের পর এক গণপিটুনির ঘটনা ঘটে। ২০ জুলাই তাসলিমা বেগম রাজধানীর উত্তর বাড্ডার একটি স্কুলে যান মেয়েকে ভর্তি করানোর তথ্য জানতে । এ সময় তাকে ছেলেধরা সন্দেহে প্রধান শিক্ষকের রুম থেকে টেনে বের করে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয়।
বার্তাবাজার/এসজে