চসিক নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে আওয়ামী লীগে জটিলতা

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয় ও জটিলতা। দলীয় নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত সিদ্ধান্তে কাউন্সিলর পদে প্রতিটি ওয়ার্ডের একক প্রার্থী নিশ্চিত করা হলেও দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে আওয়ামী লীগের।

দলীয় প্রার্থী নিশ্চিতের সিদ্ধান্ত মেনে না নেওয়াতে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে লড়াই করার ইচ্ছার দরুন সৃষ্টি হচ্ছে গ্রুপিং ও দলীয় বিভাজনের সম্ভাবনা। যা নিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক মন্ত্রী এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীর প্রধান সমন্বয়ক ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, “মেয়র পদে একক প্রার্থী নিয়ে কোন ঝামেলা না থাকলেও কাউন্সিলর পদে সক্রিয় বিদ্রোহীরা।

বিগত সময়ে জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকারের কয়েকটি নির্বাচনে বিদ্রোহীদের শাস্তি না হওয়ায় এবারও দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হলে কিছু হবে না মনে করছেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা। কিন্তু এবার তেমন কিছু আশা করা ভুল হবে। আগামী ৫ মার্চ বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে প্রথম একটি সমন্বয় সভা করা করা হবে।

আওয়ামী লীগের দলীয় সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী ছাড়া বিভিন্ন ওয়ার্ডে অন্য যারা প্রার্থী হয়েছেন (বিদ্রোহী) তাদের নাম প্রত্যাহারের আহবান জানানো হবে। যারা নাম প্রত্যাহারে অসম্মতি প্রকাশ করবেন। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরো বলেন, “দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানের লক্ষ্য মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ বিদ্রোহীদের বোঝানোর চেষ্টা করে চলেছেন। বিদ্রোহী প্রার্থীদের কেন্দ্রীয় ও নগরের নির্দেশনার কথা জানিয়ে সতর্কও করা হচ্ছে। তাদের বলা হচ্ছে যে, দল সমর্থিত প্রার্থীদের বিরোধিতা করার অর্থ হলো দল ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বিরোধিতা করা। যা নিতান্তই সাংগঠনিক পরিপন্থী কাজ। আর এত কিছু বুঝাবার পরও কেহ যদি সরে না দারায়। তাহলে তাকে সাংগঠনিক শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।”

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, “বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের জন্য বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে প্রথমে একটি সমন্বয় সভা করা হবে। তাদের ইতিমধ্যেই বোঝানোর চেষ্টাও করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হলো প্রতিটি পদে একক প্রার্থী নিশ্চিকরণের মাধ্যমে দলীয় বিজয়ের ধারা অব্যাহত রাখা।

যারা সরে দারাবেননা। তাদের ব্যাপারে পরে যা হওয়ার হবে। তবে প্রথমে ভাবতে হবে কিভাবে একক প্রার্থী নিশ্চিতের মাধ্যমে দলীয় সুনাম ও বিজয়ের ধারা অক্ষুণ্ন রাখা যায়। উল্লেখ্য, প্রথমবারের মত ইভিএম পদ্ধতিতে আগামী ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের আজ ১ মার্চ শেষ তারিখ।

প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৮ মার্চ এবং প্রতীক বরাদ্দের তারিখ ৯ মার্চ। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে চলমান জটিলতা নিরসনের সময় খুব কম। এরই মধ্যে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা দলের জন্য একটি বড় দায়িত্ব বলে মনে করছেন মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।

বার্তাবাজার/কেএ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর