ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ৪৯নং ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত কাউন্সিলর জনাব আনিসুর রহমান নাঈম বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী জানান- আমি ইসমাইল হোসেন বর্তমানে একটি উদ্ভদ্ধ পরিস্থিতিতে আপনাদের সদয় সহযোগীতা কামনা করছি। জায়গার পজিশনের দখল ফেরৎ পাওয়া ও আমার ক্রয়ক্রত সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষণের জন্য গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে আপনারা আমাকে যদি একটু সদয় সহযোগীতা করেন তবে আমি আপনাদের নিকট চির কৃতজ্ঞ থাকব।
রবিবার উত্তরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন নির্যাতিত মোঃ ইসমাইল হোসেন ও তার পরিবার।

২০১০সালে আমি হাজী আবুল খায়ের এর নিকট হইতে ১১/২ কাঠা সম্পত্তি ক্রয় করি। পরে আমার সম্পত্তি দুই পাশে মীর আনোয়ারুল ইসলাম এবং ইয়াসমিন নূর সম্পত্তি ক্রয় করেন। মীর আনোয়ার এবং ইয়াসমিন নূরের নিকট হইতে কাউন্সিলর নাঈমের ইশারায় জুবায়ের নামক ব্যাক্তিকে পাওয়ার অফ এটর্নী প্রদান করে। উল্লেখ্য নাঈম ও তার ভাই নাজমুল এর ইশারায় এই পাওয়ার অফ এটর্নী নিয়ে ভূমিদস্যু নাজমুল বিক্রী করতে দালালির দ্বায়িত্ব নেয়।
সেই মোতাবেক কৌশিক আহম্মেদ, আ:বাতেন,শাহজাহান এবং জহুরুল গাং এর নিকট উক্ত সম্পত্তি বিক্রয় করে। যেহেতু আমার সম্পত্তির পজিশন মাঝখানে ছিলো তাই তারা নাজমূলের মাধ্যমে জায়গা কিনে কৌশিক গংরা আমার পাজিশন থেকে সরিয়ে আমার সম্পত্তি জোর করে দখলে নেয়। সেই দখল বৈধ করতে আমাকে একটি দখল পরিবর্তন চুক্তির দলিলে জোর করে স্বাক্ষর করতে বলে। আমি স্বাক্ষর না করে, আমার জায়গার দখল ফিরে পেতে জরিপকারীকে নিয়ে উপস্থিত হই। তখন নাজমুল সহ উক্ত ব্যাক্তিরা আমাকে প্রাণে মেরে ফেলতে ধাওয়া করে।

আমি কোন রকমে পালিয়ে এসে দক্ষিণখান থানা পুলিশকে অবগত করি। থানাপুলিশ সাধারণ ডায়েরী করতে বললে আমি সংগে সংগে তা করি। থানা-পুলিশ নাঈম গংদের উপস্থিতিতে আমার জায়গায় অবস্থানের বৈধতার রায় দেয়। অতঃপর থানা-পুলিশের সহায়তায় দেওয়াল ও সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে দিলে তা প্রকাশ্যে নাজমুল এবং তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা ভেঙ্গে উপড়ে ফেলে এবং আমার বংশ নিপাত করে দেবে বলে হুমাকি দেয়। সাথে আমাকে যেখানে পাবে সেখানেই মেরে ফেলা হবে, আমার সন্তানদের তুলে নিয়ে যাওয়া হবে বলে প্রকাশ্যে হুমকি দিতে থাকে।
আমি এবং আমার পরিবার বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি। ইতিপূর্বে এই কুখ্যাত নাঈম ২৬শে আগষ্ট ২০১৪ইং তারিখে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় অস্ত্রসহ ধরা পরে এবং মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পায়। অন্যের জায়গা দখল করে ফুলের বাগান করায় টিভি চ্যানেল২৪ এ সেই সংবাদ প্রচার হয়। পরবর্তিতে ভূক্তভোগীরা সংবাদ সম্মেলন এবং মানববন্ধন করে। চ্যানেল২৪ ও বাংলাদেশ প্রতিদিনসহ অনেক জাতীয় দৈনিক প্রত্রিকায় নাঈম ব্যাপারীর নানান অপকর্ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলেও প্রশাসন বা অন্যকোন মহল থেকে নেওয়া হয়নি নাঈম গংদের বিরুদ্বে দৃশ্যমান কোন ব্যাবস্থা। ফলে এই নাঈম গংরা হত্যা, গুম, চাঁদাবাজি, মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডসহ করে বেড়াচ্ছে নানাবিধ অপকর্ম।
আপনাদের মাধ্যমে আমি বর্তমান সরকার মাননীয় প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট আকুল আবেদন জানাচ্ছি যে, এই কূখ্যাত সন্ত্রাসী নাঈম কাউন্সিলর এবং তার ভাইদের হাত থেকে আমাকে এবং আমার পরিবারকে বাঁচাতে তিনি যেন প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করেন। তিনি স্নেহময়ী মা, তাঁর হস্থক্ষেপ ছাড়া এই মূহুর্তে আমার এবং আমার পরিবারের জীবন এবং সহায় সম্পদ রক্ষার আর কোন বিকল্প দেখতে পাচ্ছি না।
পরে মোঃ ইসমাইল হোসেন সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং ভূমিদস্যু নাঈম ব্যাপারীর হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি