বন্দর নগরী চট্টগ্রামের ষোলশহর দুই নম্বর গেইটের ট্রাফিক পুলিশ বক্সে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) দায় স্বীকার করেছে। সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ এ তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে নগরের পাঁচলাইশ থানার ষোলশহর দুই নম্বর গেট ট্রাফিক বক্সে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরনে পুলিশের দুই কর্মকর্তা আহত হন। ঘটনার পর সড়কের সিগন্যাল বাতির মেশিন থেকে বিস্ফোরণ ঘটে বলে ধারণা করা হলেও, পরে ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরকের আলামত উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, গত বছরে রাজধানীতে পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার সঙ্গে এ ঘটনার মিল পাওয়া গেছে বলে। ইতোমধ্যে ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট, গোয়েন্দা পুলিশ, পিবিআই ও সিআইডি। এছাড়া ঢাকা থেকে এসেছে বোম্ব ডিজপোজাল ইউনিটের সদস্যরাও।
বিস্ফোরণের ঘটনায় নগরের পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসী ব্যক্তি অথবা গোষ্ঠীকে দায়ী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন নগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক অনিল বিকাশ চাকমা।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আমেনা বেগম জানান, বিস্ফোরণের পর প্রাথমিকভাবে বিষয়টিকে বৈদ্যুতিক গোলযোগ বলে ধারণা করা হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এটিকে বড় ধরনের বিস্ফোরণ বলে শনাক্ত করেছে। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে জিআই পাইপ ও মার্বেল জাতীয় পদার্থের টুকরার আলামতও পাওয়া গেছে। জব্দ আলামত পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নাশকতার জন্য ইম্প্রোভাইসড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বা নিজস্ব উদ্ভাবনী কৌশল ও প্রযুক্তি প্রয়োগ করে তৈরি বোমা ব্যবহার করা হয়েছে, যা স্থানীয়ভাবে তৈরি করা।
তিনি আরও বলেন, ধারণা করা হচ্ছে- বিস্ফোরক পুলিশ বক্সের ভেতরে কে বা কারা রেখে গিয়েছিল, তবে ছুড়ে মারা হয়নি। ঢাকার পুলিশ বক্সে হামলার ঘটনার সঙ্গে এটির মিল আছে কি-না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে শনিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা থেকে সহকারী পুলিশ সুপার শাওন কুমার সরকারের নেতৃত্বে আসা এন্টি টেরোরিজম ইউনিটের ১১ সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থলে আসেন। তারা বিস্ফোরণের পর আলামত সংগ্রহকারী পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনাস্থল থেকে জব্দ আলামত পরীক্ষা করেন।
বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস